সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. কফিল উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা গতকাল (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর ডিসি রোডস্থ কফিল উদ্দিন চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
কফিল উদ্দিন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংগঠক সাহেদ মুরাদ সাকুর সভাপতিত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড মহানগর কমিটির সদস্য সৈয়দ মোঃ মঈনুল আলম সৌরভের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড মহানগর সদস্য সচিব কাজী মুহাম্মদ রাজিশ ইমরান।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাকলিয়া থানা আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুদ্দৌলা দৌলত, সাইফুল ইসলাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংগঠক সাহাব উদ্দিন সাবু, লিটন, হোসেন সরোয়ার্দী এলিন, বোরহান উদ্দিন ফরহাদ, পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড যুব লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আজাদ, যুব মহিলা লীগ নেতা নাসরিন সুলতানা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন আহাদ, মাইনুল কামাল, ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ ফয়সাল, হালিশহর থানা ছাত্র লীগ সদস্য ফারহান আসিফ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালে তাঁর নেতৃত্বে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার কারণে স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে না হলে বাংলাদেশ কখনও স্বাধীন হতো না। যুদ্ধ বিধ্বস্ত পোড়ামাটির বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু সাড়ে ৩ বছরে যে অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন তা ইতিহাসে নজির। জাতির পিতার সাথে সংসদ সদস্য ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম কফিল উদ্দিন। বঙ্গবন্ধুর সাথে কফিল উদ্দিনরা একসাথে সোনার বাংলা বিনির্মানে কাজ করেছিলেন। কিন্তু খুনি জিয়া-মোস্তাকসহ ৭১’এ যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী ও পরাজিত শক্তি তারাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম নারকীয় হত্যাকান্ড আর ঘটেনি। এ বর্বরতম হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় যুক্ত হয়েছিল।
তিনি বলেন, শুধু রাষ্ট্র ক্ষমতার জন্য নয়, সমগ্র বাঙ্গালীর স্বপ্ন ও স্বাধীনতা নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। যারা এ ঘটনার নেপথ্যে ছিল কিংবা মদদ দিয়েছে তাদেরকের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শোককে শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যিনি সমগ্র বাঙ্গালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। আজ তাঁরই সুযোগ্য কন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। বর্তমান সময়ে দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার বিকল্প বা সমকক্ষ কেউ নেই। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও উদ্দেশ্য হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। সমস্ত ভেদাভেদ ভূলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০৪১ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় যুক্ত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেত। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তা হতে দেয়নি। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। যারা স্বাধীনতা বিরোধী ও বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যার মদদ দিয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।















