বাঁশখালীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫২ পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন

187

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল বাংলাবাজার সংলগ্ন জলদাশ পাড়ায় গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার সময় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৩২ বসতঘরের প্রায় ৫২ টি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অর্ধকোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। ঘনবসতি হওয়ায় মুহূর্তেই আগুন সব দিকে ছড়িয়ে পড়ায় কোনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

Advertisement

এদিকে খবর পেয়ে আজ ৭ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।

এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার টাকা, ১ বান্ডিল করে ঢেউটিন, গৃহ নির্মাণ বাবদ নগদ ৩ হাজার টাকা, ৩০ কেজি চাল, ১৫ কেজি শুকনো খাবার ও পরিবার প্রতি ৫টি করে কম্বল প্রদান করেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহেনা আক্তার কাজেমী, চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরীসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই এলাকার জলদাশ পাড়ার মিলন জলদাশের বাড়িতে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটে।

খবর পেয়ে বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো হল- মৃদল দাশ, বাদল দাশ, সমীরণ দাশ, সম্পদ দাশ, সুকুমার দাশ, রাজকুমার, সুধীর দাশ, স্বপন দাশ, রঞ্জুত দাশ (দুই পরিবার), হরি দাশ, রতন দাশ, পরিতোষ দাশ, সাগর দাশ (পাঁচ পরিবার), সুরেশ দাশ, হরিপদ দাশ, গুরুধন দাশ, মধুরাম দাশ, শ্রীনন্দ দাশ, সন্দা মোহন দাশ, সমীরণ দাশ (দুই পরিবার), গোপাল দাশ (৪ পরিবার) মতিলাল দাশ (দুই পরিবার), রাম প্রসাদ (৪ পরিবার), ভাটি রাম দাশ (তিন পরিবার), রাখাল দাশ, জদু রাম দাশ সহ ৩২ বসতঘর।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের টিম লিডার নুরুল বাশার বলেন, চাম্বল ইউপি’র বাংলাবাজারের অদূরে পশ্চিম চাম্বল জলদাশ পাড়ায় অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে আমাদের ফায়ার সার্ভিস টিম দ্রæত ঘটনাস্থলে পৌছান। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা ধরে আমরা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আযাদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিৎ করে বলেন, ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৩২ বসতঘরের সর্বস্ব পুড়ে যায়। অনেকগুলো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Advertisement