ফেনী টু চট্টগ্রাম সংঘবদ্ধ মুক্তিপন আদায়ের নেপথ্যে ইসমাইল-জেরিন;পুলিশের নীরবতায় সন্দেহ

589

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বামী স্ত্রী নয়, তবুও একএে বিচরণ করে ফেনী থেকে চট্টগ্রাম। রুবিনা আক্তার জেরিন(২৫) ফেনীর পাঠান পাড়ায় মায়ের বাসাতে থাকে। আরো একটি বাসা রয়েছে ফেনীর শাহীন একাডেমির হাজী ম্যানসনের ৫ম তলায়, যেখানে ফাঁদ পেতে কৌশলে ব্যবসায়ী এনে চালাতো মুক্তিপন আদায়ের কাজ। নগরীর খুলশী থানাধীন ৩ নং রোর্ডের একটি বাসায় ফেনী হতে কৌশলে খুলশীর বাসায় এনে একই কায়দায় গোপনে চালিয়ে আসছে মুক্তিপন আদায়।সেই সাথে তুলে রাখা হয় উলঙ ছবি। লজ্জায় বিষয়টি কাউকে জানানোর সাহস করে না কেউ। সহযোগী হিসেবে রয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাতি ও ছিনতাই মামলার আসামী ঈসমাইল (৩০)।

Advertisement

সোমবার (২২ ফ্রেবুয়ারী) দুপুরে ফেনী জেলার বক্তার মুন্সির হাট, হুমায়ুনের বাড়ীতে রুবিনা আক্তার জেরিন (২৫)পিতা অজ্ঞাত, ঈসমাইল হোসেন (৩০) পিতা: মোঃ হাজী ইউসুফ ও আজাদের (৩০)বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বাদী নিজে পালিয়ে বেড়ালেও নিরাপত্তাহীন অভিযোগকারীর পরিবার। সব জেনে চুপ পুলিশ।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রুচিতা বেগম(৬৫)কে অপহরণ করে জেরিন ও ঈসমাইল। আঁখি(২৫) ঈসমাইলের সাবেক স্ত্রী। ডাকাতি, মুক্তিপন, মাদক ব্যবসায় জড়িতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তালাক দেয় আঁখি।

ভিকটিম উদ্ধার করার বিষয়টি স্বীকার করেন পুলিশ পরিদর্শক শাখাওয়াত। তবে অভিযুক্ত জেরিনকে ঘটনা স্থলে পেয়েও আটক না করার বিষয়টি চেপে যান তিনি।

জানাযায়, ঘটনা জেনে গিয়ে মুখ খুলতে পারে এ ভয়ে এমন কর্ম করে চক্রটি। আঁখি জানায়, মাথানত না করে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হাজির হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিলে ফেনীর একাডেমি একটি বাড়ি থেকে রুচিয়া খাতুনকে উদ্ধার করে পুলিশ।

আঁখি জানায়, ঈসমাইলের বিরুদ্ধে হাইওয়ে ডাকাতি এবং ফেনী মডেল থানায় হোন্ডা চুরি, অস্র মামলা
রয়েছে বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিন পেয়ে এবার জেরিনের সাথে জোট বেধে নামে মুক্তি
পন আদায়ে।

নির্ভরযোগ্য সূএ জানায়, ব্যাবসায়িদের কৌশলে ফাঁদে ফেলে বাসায় এনে নগ্ন ছবি তুলে চলে মুক্তিপন আদায়। শুধু ফেনীতে নয়, চট্টগ্রামের খুলশী ৩ নং রোডের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন গোপনে ফেনীর ব্যবসায়িদের এনে ফাঁদে ফেলে আদায় করে মোটা অর্থ। বিষয়টি স্বীকার করে জেরিনের চট্টগ্রামে থাকা কথিত প্রেমিক আজাদ।

দেখতে সুন্দরী ও ফ্যাশন সচেতন এ নারী দেহ ব্যবসা ও মাদক বানিজ্যের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকে জানলেও ভয়ে চুপ থাকে। কারণ পিছনে রয়েছে অদৃশ্য হাত। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৩০/৪০ টি অপকর্মে জড়িত জেরিন ও ঈসমাইল। স্বামী স্ত্রী না হয়েও বসবাস স্বামী স্ত্রীর মতো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এতোটাই প্রভাবিত বলা চলে একটি পরিবার অবরুদ্ধ জেনেও সবাই চুপ। সূএ জানায়, ফেনীতে মুক্তিপন আদায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।

খুলশীর বাসায় মুক্তিপন দিয়ে রক্ষা পাওয়া এক ব্যক্তির তথ্যে বের হয়ে আসে ফেনী টু চট্টগ্রামে নগ্নকরে ছবি তুলে শেষে অর্থ আদায় করা হলেও সম্মানের ভয়ে চুপ থাকে সবাই। কিন্তু বিশেষ শর্তে সাপেক্ষে রাজি করানো হয় ভূক্তভোগী এক ব্যবসায়ীকে। তাতেই উঠে আসে অপহরণ ও অন্ধকার জগতে থাকা এ চক্রের।

ঈসমাইলের মুঠো ফোনে এমন ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে তিনি কল কেটে মোবাইল বন্ধ করে দেন। অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বাদিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে কিন্তু ঈসমাইল ও জেরিনের মত সংঘবদ্ধ অপরাধীরা পুলিশে আশীর্বাদ নিয়ে বুক ফুলিয়ে দাবড়ে বেড়াচ্ছে।

ফেনীর পুলিশ সুপার নুরুন্নবী বলেন, এ বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখবেন। যদি সন্ধ্যা পার হয়, তাহলে সাধারণত মানুষের বিচারের জায়গা কোথায়?

Advertisement