চট্টগ্রামের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় নতুন বিদ্যুত উপকেন্দ্র নির্মান প্রকল্পের নামে অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাবিত ভূমির তদন্তে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের এল এ শাখার কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন পক্ষপাতের অভিযোগ করেছেন ভূমির প্রকৃত মালিক জয়নব বেগম ।
জয়নব বেগম জানান, বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় চান্দগাঁও আবাসিক এলকার প্রবেশমুখে নতুন বিদ্যুত উপকেন্দ্র নির্মানের জন্য তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন এ ভুমি অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাব করা হয়। এ জন্য বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রকৌশলী এবং জেলা প্রশাসকের এলএ শাখার কর্মকর্তারা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বও মাসে জায়গাটি সরেজমিন পরিদর্শন করে পরিমাপ করেন। এর পর গত বছরের ১২ অক্টোবর উক্ত জায়গা যৌথ তদন্ত করা হবে মর্মে গেল বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর জয়নব বেগম ও তার ওয়ারিশদের নামে চিঠি ইস্যু করে এলএ শাখা। কিন্তু উক্ত তারিখে রহস্যজনক কারণে এল এ শাখা থেকে তদন্ত টিম আসে নাই।
বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) শাখাকে লিখিতভাবে জানানোর পর গতকাল মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারী) পূনরায় সরেজমিন তদন্তের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়।
জয়নব বেগম অভিযোগ করে বলেন জায়গাটি সরকার অধিগ্রহন করেছে শুনে স্থানীয় একটি ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট উক্ত জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছে। স্থানীয় ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট ভূয়া দলিল সৃজন করে অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাবিত ভুমি তাদের বলে দাবী করছে। সরেজমিন যৌথ তদন্তের সময় তাদেরকে উপস্থিত থাকতে চিঠির মাধ্যমে জানানো হলেও তদন্তের সময় তাদের কোন বক্তব্য গ্রহন করেননি তদন্ত কর্মকর্তারা। তারা দফায় দফায় তদন্ত কর্মকর্তা দেবতোষ চক্রবর্তীর কাছে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দাবী জানালেও পুলিশি বাধায় তা সম্ভব হয়নি।
জয়নব বেগমের ছেলে হেলাল উদ্দিন বলেন প্রকৃত ভুমি মালিকের বক্তব্য না শুনে তড়িঘড়ি করে সম্পূর্ন একতরফা তদন্ত কাজ শেষ করেন অতিরিক্ত ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা দেবতোষ চক্রবর্তী। এ বিষয়ে অতিরিক্ত ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা দেবতোষ চক্রবর্তীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি গণমাধ্যমের সাথে কোন কথা না বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যান।
এদিকে গত ২৪ ডিসেম্বর রাতের আধাঁরে উক্ত ভুমিতে পুর্ব প্রতিষ্ঠিত জয়নব পোল্ট্রি ফার্মের ব্যাপক ভাংচুর করে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি কওে স্থানীয় ভুমিদস্যুরা। এ ব্যাপারে চান্দগাঁও থানায় সাধারন ডায়েরি করেও কোন সুরাহা পাননি বলে জানান জয়নব বেগমের ছেলে হেলাল উদ্দিন। বর্তমানে জেলা প্রশাসকের এল এ শাখার কর্মকর্তাদের এহেন পক্ষপাতমূলক আচরনের ফলে ভুমির মালিকানা এবং অধিগ্রহনের অর্থপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন বৃদ্ধা জয়নব বেগম। এ ছাড়া উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বিদ্যুত উপকেন্দ্র নির্মান প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে স্থানীয় ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট জয়নব বেগম ও তাঁর সন্তানদের নানাভাবে হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি।

















