ফটিকছড়িতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ স্কুল কমিটির সদস্যের বিরুদ্ধে

283

ফটিকছড়িতে মো. সাইফুল ইসলাম নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্কুল পরিচালনা কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে।

Advertisement

গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কাঞ্চননগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার অভিভাবকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমন অমানবিক ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির শাস্তি দাবী করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসি।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলামের পিতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, তাঁর ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার আগে স্কুলে তাদের মডেল টেষ্ট পরীক্ষা চলছিল। পাশাপাশি তাদেরকে বাধ্যতামূলক কোচিং ও করতে হয়। পরীক্ষা এবং কোচিং একসাথে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করে যে কোন একটি চালু রাখার দাবী জানায়। এতে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে বিষয়টি স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য শরফ উদ্দিন কে জানান। শরফ উদ্দিন স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদেরকে স্কুল অফিসে ডেকে নিয়ে ধমকাতে থাকে। এসময় সাইফুল এর প্রতিবাদ করলে তাকে বেত দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়ে অনান্য শিক্ষার্থীরা। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।

সাইফুলের পিতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছেলে দোষ করলে স্কুলের শিক্ষক তাকে শাসন করবেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অভিভাবককে ডেকে বিষয়টি অবহিত করবেন। কিন্তু তা না করে এ ভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় একজন শিক্ষার্থীকে পিটানো অমানবিক। অবশ্য অভিযুক্ত পরিচালনা কমিটির সদস্য শরফ উদ্দিন স্থানীয় লোকজন নিয়ে সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানান সাইফুলের পিতা দেলোয়ার।

এ ব্যাপারে শরফ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি। তিনি এজন্য অনুতপ্ত বলে জানান।

এদিকে এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুচ ছাত্তারের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা অভিভাবক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য শফিউল আজম বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় স্কুলটিতে নানা অনিয়ম চলছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরন বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন তিনি। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফি এর বাইরে ৩২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এছাড়া উন্নয়ন ফি’র নামেও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। প্রধান শিক্ষকের যোগসাজসে চলছে কোচিং বাণিজ্য।

স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা হোসাইন মো: মনসুর বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির নিস্ক্রিয়তার কারনে এ স্কুলে নানা অনিয়ম চলছে। তিনি এসব বিষয়ে সরকারী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Advertisement