“দাম কমেছে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের”

সকল শ্রেণির মধ্যে উৎসবের আনন্দ ফিরিয়ে আনতে চট্টগ্রাম থেকেই শুরু মানবিক বাজারব্যবস্থার নতুন অধ্যায়

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে “ফেস্টিভ সেল” প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট অভিযান জোরদার

1

পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা-এর সার্বিক নির্দেশনায় মহানগরী ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বাজার মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট, পরিবহন তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

Advertisement

জেলা প্রশাসকের ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ “ফেস্টিভ সেল” কার্যক্রম ইতোমধ্যে চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। “দাম কমেছে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাজারে মূল্যছাড়ের সংস্কৃতি চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসায়ীদের প্রতি উৎসবকেন্দ্রিক মূল্যছাড় কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানালেন।

সম্প্রতি খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎসব এলেই পণ্যের দাম কমে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে ‘ফেস্টিভ সেল’ বা বিশেষ মূল্যছাড় একটি সাধারণ সংস্কৃতি। কিন্তু আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে উল্টো চিত্র দেখা যায়—উৎসব এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। সেই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে আমাদের একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী। তাই আমরা চট্টগ্রাম থেকেই একটি নতুন বার্তা দিতে চাই—উৎসব আসলে জিনিসের দাম বাড়বে না, বরং কমবে। এবং এই উদ্যোগে চট্টগ্রামই হবে পথপ্রদর্শক।”

জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, উৎসবের প্রকৃত দর্শন হচ্ছে সর্বজনীন অংশগ্রহণ। তিনি বলেন, “যখন কিছু মানুষ উৎসব করতে পারে আর কিছু মানুষ দ্রব্যমূল্যের চাপে আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়, তখন সেটিকে সামগ্রিক উৎসব বলা যায় না। আমরা চাই সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারুক।”

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“আমরা ব্যবসায়ীদের লোকসান করতে বলছি না। বরং একজন ব্যবসায়ী যদি একটি পণ্যে এক টাকা লাভ করেন, তাহলে ঈদ উপলক্ষে সেই লাভের একটি অংশ ছাড় দিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। এতে ব্যবসায়ীরও বড় ক্ষতি হবে না, বরং ক্রেতা বাড়বে।”

জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগে ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ঈদ উপলক্ষে অন্তত তিন দিনের জন্য বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মূল্যছাড় দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে “মানবিক বাজারব্যবস্থার নতুন অধ্যায়” হিসেবে দেখছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আজ আমরা প্রত্যয় ব্যক্ত করছি—চট্টগ্রাম থেকেই একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এখানে উৎসব এলে পণ্যের দাম বাড়বে না, বরং কমবে। আর এই উদ্যোগে চট্টগ্রামই হবে পথপ্রদর্শক।”

এছাড়াও জেলা প্রশাসকের এই মহতী ও জনবান্ধব উদ্যোগকে সাধারণ ভোক্তারা স্বাগত জানিয়েছেন। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসায় ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, উৎসবকে সামনে রেখে এ ধরনের উদ্যোগ বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মূল্যছাড় ও “ফেস্টিভ সেল” কার্যক্রমের ফলে বাজারে ক্রেতাসমাগম ও বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ কম দামে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও অধিক বিক্রির মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগ বাজার ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক ও মানবিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী, চন্দনাইশ, রাউজান, লোহাগাড়া, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজারসমূহেও দৃশ্যমান স্থানে “দাম কমেছে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের” প্রতিপাদ্য সম্বলিত ব্যানার টাঙানো হয় এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজারগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং ব্যবসায়ী, আড়তদার ও সাধারণ জনগণকে জেলা প্রশাসনের চলমান পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

সাধারণ ভোক্তারা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, জেলা প্রশাসনের নিয়মিত উপস্থিতি ও কার্যকর বাজার তদারকির ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটা করতে পারছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো অসাধু চক্র যেন অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের এ ধরনের বাজার মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

সন্দ্বীপ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে “দাম কমেছে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের” প্রতিপাদ্য সম্বলিত ব্যানার স্থাপন ও বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সাধারণ ভোক্তারা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, জেলা প্রশাসনের নিয়মিত উপস্থিতি ও কার্যকর বাজার তদারকির ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটা করতে পারছেন।

“দাম কমেছে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাউজান উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ব্যানার স্থাপন ও বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের জেলা প্রশাসনের চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে “দাম কমেছে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের” প্রতিপাদ্য সম্বলিত ব্যানার স্থাপনসহ বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে আদা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ও মসলাজাতীয় পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে।

হাটহাজারিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের এ জনবান্ধব উদ্যোগকে ব্যবসায়ীরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং ঈদকে সামনে রেখে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য হ্রাস করে বিক্রি করছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্রেতা ও সাধারণ ভোক্তারা জানান, জেলা প্রশাসনের চলমান মনিটরিং কার্যক্রমের ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে এবং তারা স্বস্তির সাথে কেনাকাটা করতে পারছেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের এই অনন্য উদ্যোগ বাস্তবায়নে চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দৃশ্যমান স্থানে সচেতনতামূলক ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জেলা প্রশাসনের এই জনবান্ধব পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

চমৎকার উদ্যোগ! রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের এই জনবান্ধব পদক্ষেপ মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।অভিযান চলাকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রবণতা অনেকাংশে কমে এসেছে বলে সাধারণ মানুষ মত প্রকাশ করেন।

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং উৎসবের আনন্দ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে “দাম কমেছে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের” প্রতিপাদ্য সম্বলিত festive sale এর ব্যানার স্থাপন ও বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অভিযানকালে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২টি মামলায় মোট ৩,০০০/- টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

“জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজার রেয়াজউদ্দিন বাজার ও খাতুনগঞ্জে বিশেষ তদারকি পরিচালনা করা হয়। মনিটরিং চলাকালে বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এসময় ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়, মূল্য তালিকা প্রদর্শন, অতিরিক্ত মুনাফা পরিহার এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

Advertisement