প্রসব সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত পাঁচুরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’র

150

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলাধীন হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচুরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে প্রসব সেবা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা গত ১৬ মে মঙ্গলবার পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আতিকুল মামুন। বক্তব্য রাখেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (সাধারণ) নাজমুল হাসান, সহকারী পরিচালক (সিসি) ডা. ছেহেলী নার্গিস, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুপর্না দে ও পাঁচুরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার শিল্পী চৌধুরী।

এই সেবা কেন্দ্রে গত এপ্রিল মাসে ১২৬টি স্বাভাবিক প্রসব সেবা (ডেলিভারী) হয়েছে যা জেলায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এছাড়া প্রতি মাসে গড়ে ৮০-৯০টি স্বাভাবিক প্রসব সেবা (ডেলিভারী) হয়। এজন্য অতিথিবৃন্দরা পাঁচুরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নিজ নিজ কর্মস্থল এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদেরকে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানসহ জনগণকে সচেতন করতে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদেরকে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিতে হবে।

পাঁচুরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডাঃ শিল্পী চৌধুরী বলেন, এ সেবা কেন্দ্রে প্রতিমাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মা ও শিশুদের সেবার পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা ও কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ রোগীর সেবাও দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ দোকান-পাট উচ্ছেদের সময় সেবা কেন্দ্রের সামনের সীমানা প্রাচীর প্রায় ৫০ফুট ভেঙ্গে গিয়েছে এবং পেছনেও সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গা রয়েছে। কোন কোন সময় দীর্ঘ সময়ের জন্য লোডশেডিং হয়। এসময় বিদ্যমান আইপিএস দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় না। এসময়ে পরিবার পরিকল্পনা ও কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা আরও গতিশীল করতে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন আইপিএস প্রদানের জন্য উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট দাবী জানান তিনি। একই সাথে একটি আধুনিক হাইড্রোলিক লেবার টেবিল সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আতিকুল মামুন মনযোগসহকারে দাবী-দাওয়াগুলো শুনে ভঙ্গে যাওয়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ উত্থাপিত দাবী-দাওয়া পুরণের আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রতিরোধ করতে হলে স্বাভাবিক প্রসব সেবা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। পাচুরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এ ক্ষেত্রে অগ্রনী ভুমিকা পালন করছে। হাবিলাসদীপ ইউনিয়নকে ‘জিরো হোম ডেলিভারী’ হিসাবে ঘোষনা করা যায় মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ২০৩০ সালে মাতৃমুত্যুর হার ৭০ শতাশে নামিয়ে আনতে হলে শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নিরাপদ প্রসব সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। একইসাথে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুপর্না দে’কে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সমন্বয় করে ‘জিরো হোম ডেলিভারী’ শুরুর নির্দেশনা প্রদান করেন।

Advertisement