৭ লাখ টাকা কাবিনে দাদিকে বিয়ে করল নাতি

171

ভোলার চরফ্যাশনে নাতিকে বিয়ে করেছেন সৎদাদি। ঘটনাটি ঘটেছে চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। দাদি-নাতির অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিয়ে নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তাদের একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করছে স্থানীয় মানুষ।

Advertisement

জানা গেছে, হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ আলম বেপারি দেড় বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর পর তার তৃতীয় স্ত্রী বিধবা সামসুন্নাহারের (৫০) সঙ্গে নাতি মো. মিরাজের (২৩) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে এলাকায় নানা কথা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যরা কয়েক দফা বৈঠক করেও কোনো সুরাহা করতে পারেননি।

অবশেষে গত ২১ মে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে তারা দুজনে বিয়ে করেন। দেনমোহর নির্ধারণ করেন ৭ লাখ টাকা।

বিয়ের বিষয়ে মিরাজ জানান, স্থানীয়রা তাদের নিয়ে নানা অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, আমি দাদিকে বিয়ে করে কোনো পাপ করিনি। আমি নিয়ম মেনেই বিয়ে করেছি। আমাদের সংসার সুখেই চলছে। সামসুন্নাহার তার দাদার তৃতীয় স্ত্রী। মিরাজের বাবার সৎমা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরাজের দাদা শাহে আলম ব্যাপারী তিনটি বিয়ে করেন। সামসুন্নাহার বেগম (৪২) মিরাজের দাদার তৃতীয় স্ত্রী। কিন্তু মিরাজ দাদার প্রথম স্ত্রীর নাতি। প্রায় দেড় বছর আগে মিরাজের দাদা শাহে আলম মারা যান। এরপর থকে তিন সন্তানের জননী সামসুন্নাহার একা হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে দেখাশোনার দায়িত্ব নেন নাতি মিরাজ।

এদিকে দাদি সামসুন্নহারের বাড়ি যাতায়াত করতে থাকেন মিরাজ। পরে স্থানীয়রা তাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। এই কারণে নাতি মিরাজ ও সামসুন্নাহার গত ২১ মে ভোলা গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। পরে একই দিন নাতি ও দাদিকে কাজির মাধ্যমে আবারও বিয়ে করেন।

দাদি সামসুন্নাহার বেগম জানান, আমার ঘরে দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান আছে। তাদেরকে মেনে নিয়েই আমার নাতি আমাকে বিয়ে করেছে। বাকি জীবনটা নাতির সঙ্গে কাটিয়ে দিতে চাই। ভোলায় গিয়ে মিরাজ আর আমি বিয়ে করেছি। গত ২১ মে বিয়ে করার পর থেকে মিরাজ আমার বাড়িতেই আছেন। আমরা খুব ভালো আছি।

এদিকে এ বিয়ে নাতির পরিবার লোকজন মেনে নেয়নি। নাতির বড় ভাই জানান, দাদিকে আমার ছোট ভাই বিয়ে করেছে কিন্তু আমাদের পরিবার মেনে নেয়নি। তাছাড়া কোর্ট এফিডেফিটে আমার ভাইয়ের বয়স ২৩ উল্লেখ করা হলেও তার প্রকৃত বয়স ১৭।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম হাওলাদার জানান, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন।

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান পাটওয়ারী জানান, দাদি ও নাতির বিয়ের খবরটি শুনেছি। প্রাথমিকভাবে জেনেছি, জোর করে কেউ কাউকে বিয়ে করেনি।

Advertisement