চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে অবস্থিত সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে ম্যাগাজিন প্রকাশের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে ফি আদায় করছে কর্তৃপক্ষ। টাকা না দিলে সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রেণি শিক্ষকের এমন হুঁশিয়ারি নিয়ে সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের আপত্তি যেমন আমলে নিচ্ছে না, তেমনি আর্থিক সংকটের বিষয়টিও বিবেচনা করছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি, মিশনারি পরিচালিত স্কুলটি শুধু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা ফি দিয়েই পরিচালনা করা হয়। জমানো অর্থ ব্যয় করা হয় প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে।
একাধিক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৭০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। গত এক মাস ধরে স্কুল কর্তৃপক্ষ ম্যাগাজিন ও এসএমএস চার্জ বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা করে আদায় শুরু করে। এরমধ্যে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে ম্যাগাজিনের জন্য। বাকি টাকা নেওয়া হচ্ছে এসএমএস চার্জ বাবদ। এ হিসাবে ম্যাগাজিনের নামে প্রায় ৫ লাখ টাকা আদায় করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে প্রতিদিন ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের চাপ দিচ্ছেন শ্রেণি শিক্ষকরা। সর্বশেষ বুধবার এক অভিভাবক তার সন্তানকে ম্যাগাজিনের টাকার জন্য চাপ না দিতে অনুরোধ করে শ্রেণি শিক্ষকের কাছে চিঠি দিয়েছেন।
বাদশা আলমগীর নামে ওই অভিভাবক বলেন, ‘ম্যাগাজিনের টাকার জন্য প্রতিদিন ক্লাসে দাঁড় করানো হয়। শ্রেণি শিক্ষক জানিয়েছেন, যারা ম্যাগাজিনের টাকা দেবে না, তাদের সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না। অথচ সেই টাকার কোনো রসিদও অভিভাবকদের দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে আমার মেয়ে স্কুলে যেতে চাইছে না। তবে একদিন অনুপস্থিত থাকলে ২০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এ কারণে বাধ্য হয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করে রসিদের মাধ্যমে সাড়ে তিনশ টাকা পরিশোধ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রেলওয়েতে সামান্য বেতনে চাকরি করি। এ স্কুলটিও রেলওয়ের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। অথচ মাসের ১৫ তারিখের পর বেতন দিতে গেলেও জরিমানা আদায় করছে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত বই-খাতাও কিনতে হচ্ছে স্কুল থেকেই। অভিভাবকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা না করেই যে কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সন্তানদের পড়ালেখার জন্য আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি।’
এ প্রসঙ্গে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিস্টার মেরী তাপতী বলেন, ‘ম্যাগাজিনের ফি স্কুল পরিচালনা কমিটির সভায় নির্ধারিত হয়েছে। সেভাবেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গত এক মাস ধরে টাকা আদায় করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থী টাকা দিতে বিলম্ব করছে, তাদের হয়তো ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাই বলে ম্যাগাজিনের ফি না দিলে সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না, বিষয়টি তেমন নয়।’
জরিমানা আদায় প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান এবং দায়িত্বরত শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত নন। তাই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ভর্তি ফি বা মাসিক বেতন দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। মাসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন আদায় করতে এবং নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।’
সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য গাজী তাহের উদ্দিন নকি বলেন, ‘এই এলাকায় নিম্ন আয়ের লোকজন বেশি। তাই ম্যাগাজিনের দাম সর্বোচ্চ ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু আমার প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়নি। ৩০০ টাকা দিতে অনেক অভিভাবকই আপত্তি করছেন।’
















