‘সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ক্যাম্পাস এর বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৪ ও নবনির্মিত ‘ক্লাব আউটস্কাট’ জোনের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামালপুর, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এবং কিশোরগঞ্জ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় এর উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম।
চবি ক্লাব ক্যাম্পাস এর সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ দানেশ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং ক্লাব সম্পাদক মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের প্রতিবেদনের উপর আলোচনা করেন চবি জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।
উপাচার্য অনুষ্ঠানের উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতির এত সুন্দর নান্দনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আমি মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এত সুন্দর ক্যাম্পাস পৃথিবীতে আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। এ ক্যাম্পাসে যারা বসবাস করেন তাদেরও শুকরিয়া আদায় করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।’ মাননীয় উপাচার্য জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফলে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে মর্মে উল্লেখ করে বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হবার পর এ দেশকে গড়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল একবার কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এ সুযোগ আমরা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। তিনি ’২৪ এর গণআন্দোলনের ফলে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের এ সুবর্ণ সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে জাতিকে উদাত্ত আহবান জানান।’
উপাচার্য বলেন. ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একাডেমিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে, শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করতে এবং তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়নসহ একটি সুন্দর ও নান্দনিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদসহ ক্লাবের সকল সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অব্যাহত সহযোগিতা থাকবে মর্মে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উপ উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য সুন্দর ও আকর্ষণীয় ক্যাম্পাস বিনির্মাণ করতে এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান বেশকিছু কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে।’ উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) চবি ক্লাব ক্যাম্পাসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও উন্নত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি চট্টগ্রামের সেরা অন্যান্য ক্লাবের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘কেন মানুষ চট্টগ্রাম ক্লাব বা অন্যান্য নামী-দামী ক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন কারণ এসব ক্লাবের পরিবেশ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত রয়েছে। মাননীয় উপ-উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ক্যাম্পাসে সকল ধরণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিৎ করে ‘এ ক্লাস’ ক্যাটাগরী ক্লাবে উন্নীত করতে সকলের আন্তরিক সহযোগীতা কামনা করেন।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন তাঁর অভিমত ব্যাক্ত করে বলেন, ‘চবি ক্যাম্পাস ক্লাবের সাথে আমার মধুর সম্পর্ক। ক্যাম্পাস ক্লাবে না আসলে আমার ভালো লাগেনা। আমি ক্যাম্পাস ক্লাবের একজন নিয়মিত সদস্য ছিলাম। এখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কারণে আমাকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হচ্ছে। তারপরও মাঝেমধ্যে চেষ্টা করি ক্লাবে এসে সহকর্মীদের সাথে কিছু সময় দিতে।’ তিনি ক্লাব অভ্যন্তরে সুইমিংপুলসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান। তিনি চবি ক্লাব ক্যাম্পাসের উন্নতি ও সফলতা কামনা করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম তাঁর অভিমত ব্যাক্ত করে বলেন, ‘বর্তমান ক্যাম্পাস ক্লাবে সুন্দর মনোমুগ্ধকর পরিবেশ বিরাজ করছে, ক্লাব অনেক দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। আমি যখন ক্যাম্পাসে থাকতাম তখন ক্লাবে এত সুন্দর পরিবেশ ছিলনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্লাবের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন অধিকতর সুদৃঢ় হয়।’
অনুষ্ঠানে সম্পাদকের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ক্লাবের সম্পাদক মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ এবং কোষাধ্যক্ষের বার্ষিক আয়-ব্যায় হিসাব পেশ করেন ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ মোঃ মজনু মিয়া।
অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্য চবি গণিত বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার জনাব মনজুর আহমেদকে মরনোত্তর সম্মাননা এবং অবসরপ্রাপ্ত সদস্য প্রফেসর ড. তাপসী ঘোষ রায়, প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন মিয়া, প্রফেসর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর ড. মুনিরা নাসিরউদ্দিন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার জনাব জাকের আহমদ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার জনাব সামছু উদ্দীন আহমদ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার শফিউল বশর এবং সহকারী রেজিস্ট্রার জনাব মোঃ এনামুল হককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ক্যাম্পাস এর ‘আউটস্কাট’ নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আলোকসজ্জ্বা ও অন্যান্য কাজে আলিফ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাটহাজারী, ওয়ান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাটহাজারী এবং কেয়ার পার্ক হসপিটাল, হাটহাজারী আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ প্রতিনিধিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ক্যাম্পাস এর পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অতিথিদের চবি ক্লাব ক্যাম্পাস এর পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদানে মাধ্যমে বরণ করা হয়। এছাড়াও ক্লাব ক্যাম্পাসের বার্ষিক অন্তরঙ্গ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেন। তাছাড়া ক্লাবের কার্যকরী পরিষদ ২০২৪, ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রমে গঠিত কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং ক্লাবের নবনির্বাচিত ২০২৫ কার্যকরী কমিটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ও সহকারী নির্বাচন কমিশনারদেরকে অনুষ্ঠানে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্লাবের কার্যকরী পরিষদ ২০২৫ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান এবং সম্পাদক ড. শিপক কৃষ্ণ দেব নাথসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন চবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ আবু দাউদ মুহাম্মদ মামুন এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন চবি সংস্কৃত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিপক কৃষ্ণ দেব নাথ। অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারীদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
















