চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কানাডার টরোন্টো থেকে আনন্দপুর এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন।
তিনি জানান, এ দুর্ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং দুর্ঘটনার সাথে সাথে চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনাস্থল একটি আবাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কীভাবে একটি গার্মেন্টস কারখানা স্থাপিত হয়েছে তা জানতে চিঠি দেয়া হবে। এছাড়া আবাসিক এলাকায় গার্মেন্টস কারখানা পরিচালনা করায় গার্মেন্টস মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আইন শাখার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া, মেয়রের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিম্নোক্ত অবস্থান গণমাধ্যমকে অবহিত করার জন্য প্রণয়ন করেন-
শিশু মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করে প্রেরিত আইনি নোটিশ সম্পর্কে আমাদের অবস্থান।
গত বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর আনন্দপুর এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি শিশু নালায় পড়ে প্রাণ হারায়। এই ঘটনায় আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শিশুটির পরিবার পরিজনের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।
ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে একজন নাগরিক কর্তৃক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
১। উক্ত নালাটি একটি বেসরকারি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের সীমানায় অবস্থিত এবং গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন।
২।ঘটনার স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি যা দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে।
৩।শিশুটির মা ওই গার্মেন্টসে কাজ করেন। শিশুটির মা বা পরিবারও তাদের সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়ে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেনি যা দুঃখজনক ঘটনাটির জন্ম দিয়েছে ।
৪।কোন ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বেসরকারি গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকায় গার্মেন্টস এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল।
৫।এই নালাটির ব্যাস মাত্র ১৪ ইঞ্চি। এত ক্ষুদ্র আকারের নালাগুলো সাধারণত উন্মুক্তই থাকে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের বড় নালাগুলো যথারীতি সুরক্ষিত ছিল। নালার বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কোন ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল না।
৬।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং সকল নাগরিকের প্রতি দায়বদ্ধ হলেও বেসরকারি মালিকানাধীন স্থানে সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার কিংবা বাবা-মায়ের অসতর্কতার কারণে সংগঠিত প্রতিটি ঘটনার পূর্ণ দায়ভার কর্পোরেশনের উপর বর্তানো আইনগত ও নীতিগতভাবে সঠিক নয়।
৭। হীন উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র আত্মপ্রচারের জন্য কোন ধরনের গাফিলতি না থাকা স্বত্ত্বেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আইনের সীমারেখার মধ্যে নাগরিক সেবা প্রদান করে চলেছে এবং এই ঘটনা নিয়ে যেকোনো আইনগত কার্যক্রমে যথাযথ জবাব প্রদান করবে।

















