চবিতে আবাসিক শিক্ষকদের ব্যর্থতা: গোপন করা ৩০৩ সিট উদ্ধার করল চাকসু

149

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি আবাসিক হলের সিট বরাদ্দে চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরুতে মাত্র ২৬৯টি সিট খালি থাকার কথা জানানো হলেও, চাকসু ও হল সংসদ প্রতিনিধিদের টানা কয়েকদিনের ‘হল চেকিং’ ও পরিশ্রমে আরও ৩০৩টি গোপন করা সিট উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে এখন মোট ৫৭২টি সিটে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন।সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি হল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রোভোস্ট ও হাউজ টিউটরসহ মোট ৮৪ জন সম্মানিত শিক্ষক নিয়োজিত আছেন। এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত অতিরিক্ত সম্মানি এবং গাড়ি সুবিধাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও সিট বরাদ্দে এ ধরনের বড় অসঙ্গতি তাদের দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।

Advertisement

হল প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এই পরিদর্শনে দেখা গেছে, ফরহাদ হল এবং অতিশ দীপঙ্কর হলে অনেক সিট নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ দখল করে রাখা হয়েছিল। এমনকি ফরহাদ হলের এক্সটেনশন হিসেবে আবাসিক শিক্ষকদের জন্য নির্মিত ভবনের ৮৮টি সিটও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি, যা এখন উদ্ধার করা হয়েছে।

ছাত্র প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে শিক্ষকরা সম্মানি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হলের দেখভালের দায়িত্বে আছেন, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করে সিট গোপন রাখা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অনুতপ্ত হওয়া উচিত। আমরা স্পষ্ট জানাতে চাই, প্রশাসনের হাতে সিট গোপন বা সংরক্ষণ করে রাখার সকল প্রথা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।”

তারা আরও জানান, সকল আবাসিক সিট স্বচ্ছ, ন্যায্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব পদ্ধতিতে সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। প্রতিটি সিটে সকল সাধারণ শিক্ষার্থীর আবেদন করার সমান সুযোগ থাকতে হবে। এই অধিকার আদায়ে কোনো আপস করা হবে না।

বিপুল সংখ্যক নতুন সিট উদ্ধারের এই ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার আলো দেখালেও, হল প্রশাসনের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Advertisement