লুটেরাদের গ্রাস থেকে জেলে সম্প্রদায়কে বাঁচাতে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি সুজনের অনুরোধ

315

জবরদখলকারী লুটেরাদের গ্রাস থেকে জেলে সম্প্রদায়কে বাঁচাতে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

Advertisement

উক্ত বিষয়ে জেলে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিগণ সুজনের নিকট অভিযোগ এবং সহযোগিতা প্রার্থনার প্রেক্ষিতে তিনি আজ রবিবার (২৫ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি এ অনুরোধ জানান।

এসময় তিনি বলেন সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে দীর্ঘ প্রায় ৬৫ দিন সমুদ্রে ট্রলারের মাধ্যমে সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সরকারী নির্দেশনা মেনে এসময় মাছ ধরা থেকে বিরত ছিল আমাদের জেলে সম্প্রদায়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর মাছের রূপালী আভায় তাদের মুখ হাসিখুশিতে ভরে উঠার কথা থাকলেও পতেঙ্গা থেকে কাট্টলী এলাকায় বসবাসরত জেলে সম্প্রদায়ের মুখে ফুটে উঠেছে হতাশা। অজানা আতংক ভর করেছে তাদের চোখেমুখে। একেতো দীর্ঘদিন মাছ ধরা বন্ধ। অন্যদিকে দাদনদের কাছ থেকে কড়াসুদে নেওয়া ঋণ পরিশোধের চাপ। তার উপর অপেশাদার কিছু লোকের অব্যাহত হুমকিতে তাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।

অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে যে পতেঙ্গা ১৫ নাম্বার ঘাট থেকে হালিশহর হয়ে কাট্টলী পর্যন্ত একশ্রেণীর অসাধু অপেশাদার ব্যবসায়ী জেলেদের কাছ থেকে মাছ ও জাল কেড়ে নিচ্ছে। পেশাদার জেলে সম্প্রদায়ের মাছের খুটিকে দখল করে নিচ্ছে। তারা জেলেদের কাছে উচ্চহারে চাঁদা দাবী করছে। এমনকি কম দামে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য করছে জেলেদের। এসব অপেশাদার তস্করদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবী। প্রতিবছরই ইলিশের মৌসুম আসলেই তাদের দৌরাত্ন্য বেড়ে যায়। তারা সাগরপাড়ের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক ভাগ হয়ে এসব অপকর্ম চালায়। তাদের ক্রমাগত হুমকিতে অসহায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এসব সাধারণ জেলে সম্প্রদায়। যখন এ মৌসুমে জেলেরা তাদের পরিবারের মুখে একটুকু প্রশান্তি আনতে উত্তাল সমুদ্রে দিনরাত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে মাছ আহরন করে ঠিক সেই মুহুর্তে লুটেরাদের এ ধরণের কর্মকান্ড সত্যিই অমানবিক এবং আইনবিরোধী কাজ।

তিনি এসব তস্করদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মৎস্য অধিদপ্তর, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানান। এছাড়া এসব লুটেরাদের হাত থেকে জেলে সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে পতেঙ্গা থেকে কাট্টলী পর্যন্ত বিশেষ পুলিশী টহল জোরদার করার আহবান জানান।

তিনি হুশিয়ারি উচ্চারন করে বলেন, এসব অপশক্তি যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদেরকে কোন অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া যাবে না। তিনি নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে স্বস্ব এলাকার জেলে সম্প্রদায়ের পাশে থাকার উদাত্ত আহবান জানান। প্রয়োজনে জেলে সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে এসব পেশাদার লুটকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানান খোরশেদ আলম সুজন।

Advertisement