জাফরনগর অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয় সীতাকুণ্ডের একটি প্রাচীন বিদ্যালয়

47

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জাফর নগর অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয়।

Advertisement

নিভৃত এক পল্লীতে ১৯১৪ সালে বাবু অপর্ণা রায় চৌধুরীর দানকৃত জমিতে এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় একটি টিনশেডের ঘরে এই বিদ্যাপীঠের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। শুরুতে এই বিদ্যালয়ের নাম ছিল জাফর নগর উচ্চ বিদ্যালয়।

‌গ্রামের মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে বাবু অপর্ণা চরণ রায় চৌধুরী এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের কে নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। উক্ত প্রস্তাবটি সবাই গ্রহণ করলে ১৯১৪ সালে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তিনি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর বিদ্যালয় পরিচালনা করতে গিয়ে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন বাবু অপর্ণা চরণ রায় চৌধুরী। তিনি তখন সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কে নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসেছিলেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে কর্মরত প্রধান শিক্ষক বাবু অপর্ণা চরণ রায় চৌধুরীকে অর্থনৈতিক দায়িত্ব সহ সকল দায় দায়িত্ব গ্রহণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কারণ তিনি ছিলেন একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। তিনি একজন প্রকাশনা উদ্যোক্তার মাধ্যমে উপার্জনকারী ব্যক্তি হয়ে উঠেন, যাকে ব্রিটিশ সরকার রায় বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

‌প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব এবং বিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক দায়িত্ব তাঁর উপর অর্পণ করায় তাঁর নামে বিদ্যালয়ের পুনঃ নামকরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। তখন বিদ্যালয়টির পুনঃ নামকরণ করা হয় জাফর নগর অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয়।

‌বাবু অপর্ণা চরণ রায় চৌধুরী চাকুরী জীবনের শুরুতে সীতাকুণ্ড সরকারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, ব্যাকরণবিদ, দানশীল ব্যক্তি এবং সমাজসেবক।

সমাজে বসবাসকারী প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে তাঁর লিখিত “Function English” বইটি তৎকালীন অক্সফোর্ডে পাঠ্য ছিল। তিনি নিজের অর্থেই জাফর নগর গ্রামের কালী তলায় জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে তিনি ৩ মাস গরীব দুঃখীদের খাবার বিতরণ করেছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম শহরে অপর্ণা চরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে নিঃসন্তান থাকায় তিনি তাঁর সম্পদ সমূহ সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে দান করে গিয়েছেন। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাজনের পর এলাকার বিদ্যাৎসাহী ব্যক্তিদের হাতে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করে দেশ ত্যাগ করে ভারত গমন করেছিলেন।

শিপ্রা দে (সিনিয়র শিক্ষিকা)
জাফর নগর অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয়।

Advertisement