ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আগামী ১৯-২১মে পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গনে আয়োজন করা হয়েছে। দেশব্যাপী বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভূমি অফিসগুলোতে একই সময়ে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের দোরগোড়ায় সরাসরি ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই মেলার মূল লক্ষ্য।
এ উপলক্ষে আজ ১৭ মে রোববার বিকেলে সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) শারমিন জাহান ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম একটি ক্ষেত্র হল জনবান্ধব ভূমিসেবা জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ভূমি সংক্রান্ত সেবাসমূহ অটোমেশনের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌঁছানোর লক্ষ্যে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ সকল কার্যক্রম সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক আকারে প্রচার করা আবশ্যক। জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও ডিজিটালাইজড ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়ার এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশজুড়ে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে একজন গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করে বলেন, কিছু কিছু জমি সি.এস ও আর.এস জরীপে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও দখলে থাকলেও এটির বি.এস জরীপ সরকার পক্ষে। এসব ভূমির প্রকৃত ওয়ারিশগণ বিজ্ঞ আদালতে মামলা করে রায় পাওয়ার পর নামজারীর আবেদন করেন। নামজারীর নথিগুলো সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা ভূমি অফিস থেকে নিষ্পত্তি না করে এটিতে সরকারী স্বার্থ আছে বলে অধিকতর শুনানীর জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। এতে ভূমির প্রকৃত মালিকগণ দীর্ঘ হয়রানির শিকারবিভিন্ন অজুহাতে বাতিল করে দেয়া হয়।
গণমাধ্যমকর্মীর এমন বক্তব্যেরে আলোকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঠিক বলে প্রতীয়মান হলে কোন ধরণের হয়রানি ছাড়াই ভূমির নামজারী যাতে সম্পন্ন হয় সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
ভূমিসেবা মেলার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বলেন, ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নাগরিকদের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা সহজলভ্য করা, মেলায় নাগরিকদের সরাসরি ভূমিসেবা প্রদান, অনলাইন ভূমিসেবা সিস্টেম ব্যবহারে নাগরিকদের উৎসাহ প্রদান, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রদান এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধান এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি।
মেলার কার্যক্রম ও সেবা সম্পর্কে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মেলায় সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার্থে জনগণের কাঙ্খিত সেবাসমূহ তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হবে। তন্মধ্যে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর, দাখিলা প্রদান ও নতুন রেজিস্ট্রেশন, ই-নামজারি-আবেদনের পর দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ, খতিয়ানের কপি-সার্টিফাইড কপি প্রদানের আবেদন গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সেবা. ভূমিহীনদের খাস জমি-বন্দোবস্তকৃত কৃষি খাস জমির কবুলিয়ত ও দলিল হস্তান্তর, অভিযোগ নিস্পত্তি-১৬১২২ হটলাইন ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা জিজ্ঞাসার সমাধান।
তিনি বলেন, মেলায় স্থাপিত ডিজিটাল বুথ থেকে সাধারণ মানুষকে অনলাইন ভূমি সেবা ব্যবহারের নিয়ম শেখানো হবে। বিশেষ করে, নাগরিকরা কিভাবে ঘরে বসে ই-নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করবেন, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ভূমি সেবাকে হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই এই মেলার মূল লক্ষ্য। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরা এই মেলা সম্পর্কে জানবেন এবং সেবা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। ভূমি সংক্রান্ত যে কোন তথ্য বা সেবার জন্য মেলায় আসার জন্য সর্বসাধারণকে আহ্বান জানান বিভাগীয় কমিশনার।

















