ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা চলবেনা: মেয়র

41

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় ফুটপাত দখল করে পণ্যসামগ্রী ও ফল মজুত করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, “ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য। নাগরিকদের হাঁটার অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনোভাবেই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।”

Advertisement

বৃহস্পতিবার নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ফুটপাতজুড়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ফল ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী ছড়িয়ে রাখার বিষয়টি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে ফুটপাত থেকে পণ্য ও ফল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মেয়র বলেন, নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনেক স্থানে দেখা যায়, দোকানের পণ্য ও ফলমূল ফুটপাতে স্তূপ করে রাখার কারণে পথচারীদের সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যানজট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে হলে সবার আগে জনসাধারণের চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা পরিচালনার অধিকার সবার আছে, কিন্তু সেই ব্যবসা যদি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নগরীর শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সিটি কর্পোরেশনকে সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

ফল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মেয়র বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, পচে যাওয়া ফল বা ফলের উচ্ছিষ্ট যত্রতত্র ফেলে রাখা যাবে না। বিশেষ করে তালের উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য ফলের বর্জ্য ড্রেন ও নালায় গিয়ে জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। এতে বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। পাশাপাশি এসব পচনশীল বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি হতে পারে।

তিনি ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নগরীর পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত কাজ করছে। এই কার্যক্রম সফল করতে ব্যবসায়ীসহ সকল নাগরিকের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মেয়র আরও বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যারা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করবে কিংবা ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসময় মেয়রের সাথে ছিলেন চসিকের কর্মকর্তাবৃন্দ, মহানগর বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement