জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত

‘জালিমের হাত থেকে মজলুমদের রক্ষা করো’ মোনাজাতে অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ

24

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে ‘মজলুম মুসলমানদের রক্ষা’ ও ‘জালিমদের বিচার’ চেয়ে আবেগঘন মোনাজাতে অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ উঠেছে। দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর প্রশাসক আবদুস সালাম, রাজনৈতিক নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জামাতে অংশ নেন।

ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মোনাজাতে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও কবুলিয়ত কামনা করে বলা হয়, ‘ইয়া আল্লাহ, সব মজলুম ভাইদেরকে জুলুম থেকে হেফাজত করুন। জালিমরা যেন কারও ওপর জুলুম করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করে দিন।’ একইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে ইবাদত পালনের সুযোগ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাতে আরও বলা হয়, ‘পবিত্র কোরবানির শিক্ষা যেন আমরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে পারি।’ অসহায় ও কোরবানি দিতে না পারা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তৌফিক কামনাও করা হয়। পাশাপাশি দেশের সরকারকে ‘হিম্মত, নেক নিয়ত ও সৎ সাহস’ দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ঈদ জামাতের জন্য জাতীয় ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয় বিশেষ প্রস্তুতি। মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছিল কড়াকড়ি ব্যবস্থা।

ঈদগাহ ময়দানে নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়া পর্যাপ্ত ওজুখানা ও মেডিকেল টিমের সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজার নারীসহ প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।

Advertisement