পতেঙ্গাবাসীর জন্য সুখবর

পানি সরবরাহের জন্য টানেল ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনে সেতু কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি

295

কর্ণফুলী নদী তীরে গড়ে তোলা বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের পানি নগরীর পতেঙ্গা ও কাট্টলী এলাকায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এটি ছিল সদ্য নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃজানে আলমের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পদক্ষেপ।

Advertisement

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পানি সংকট। সাগর তীরবর্তী হওয়ায় এটি লবণাক্ততা প্রবণ এলাকা। সুপেয় পানির হাহাকার এবং পাইপলাইন না থাকায় অনেক এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ দুরুহ। এই তিন ওয়ার্ডে প্রচুর পানির চাহিদা রয়েছে।

ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক ২ কোটি লিটার পানি এই ওয়ার্ডগুলোতে বরাদ্দ করা সম্ভব। এতে করে এই সমস্ত এলাকায় পানির চাহিদা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে টানেল দিয়ে পানি পতেঙ্গা এলাকায় আনার বিষয়ে সেতু কর্তৃপক্ষ ও টানেলের মূল ঠিকাদারের সাথে কয়েকদফা সভা করে চট্টগ্রাম ওয়াসার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ। সভা ও চিঠি চালাচালির পর কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগারের পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহের লক্ষ্যে পাইপলাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়নে অনাপত্তি প্রদান করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

১১ আগষ্ট বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অপারেশন শাখার একটি পত্র মারফত এই অনাপত্তি প্রদান করা হয়। অনাপত্তি পত্রে প্রস্তাবিত পাইপলাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে কর্ণফুলী টানেলের কাঠামোগত নিরাপত্তা, অগ্নি-নিরাপত্তা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বিদ্যমান ইউটিলিটিসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়সমূহ যথাযথভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক উল্লেখ করা হয়।

সে আলোকে কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে প্রস্তাবিত পাইপলাইন স্থাপন কাজের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অনাপত্তি (No Objection) প্রদান করা হয়।

এবিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসায় যোগদানের পর টানেল দিয়ে ভান্ডালজুড়ি হতে পানি পতেঙ্গা এলাকায় আনা এটি আমার প্রথম পদক্ষেপ ছিলো। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এই অনাপত্তি প্রদানে আমার প্রথম পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো। এজন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, টানেল দিয়ে পানি আনার জন্য পাইপলাইন স্থাপন ও অন্যান্য আনষঙ্গিক কাজ সেতু কর্তৃপক্ষ ও টানেলের মুল ঠিকাদার মাধ্যমে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এবিষয়ে আগামীকাল ঢাকায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পতেঙ্গা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

Advertisement