গ্রামীণ ফোনের সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চট্টগ্রাম মহানগর স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচীর পুরস্কার বিতরণ

শুধু বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করে প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না: জেলা প্রশাসক

30

গ্রামীণ ফোনের সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চট্টগ্রাম মহানগর স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচীর পুরস্কার বিতরণ উৎসব আজ ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকালে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলে শিক্ষার্থীদের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচী শুরু হয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মনকে সুন্দও ও রুচিমুগ্ধভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত ৪৮ বছর ধরে সারাদেশে বিভিন্ন উৎকর্ষ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম একটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচী। প্রতিবছর এ কর্মসূচীর মাধ্যমে সারাদেশের ১ হাজার ৫’শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ঊন পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম মহানগরের ১০১টি স্কুলের মোট ৫ হাজার ৮৯৫ জন শিক্ষার্থী বইপড়া কর্মসূচীতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। তাদের এই সাফল্য উদযাপন ও বইপড়া উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দিনব্যাপী এই পুরস্কার বিতরণী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

পুরস্কার প্রাপ্তদের ৪ হাজার ৬১৬ জন ‘শুভেচ্ছা’, ১ হাজার ১৫০ জন ‘অভিনন্দন’ ও ১২৯ জন ‘সেরাপাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করেছে। প্রতিটি স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিন ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে-শুভেচ্ছা পুরস্কার, অভিনন্দন পুরস্কার ও সেরাপাঠক পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে ১ হাজার ৭৫২ জন ছেলে ও ৪ হাজার ১৪৩ জন মেয়ে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। দিনব্যাপী উৎসবের বিশাল আয়োজন ও পুরস্কারের বই স্পন্সর করেছে গ্রামীণ ফোন লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) ও দেশব্যাপী ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ বিল্লাল হোসেন খান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি নাট্যাভিনেতা ডা. আবদুন নুর তুষার, ইনস্টিটিউট অব চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের প্রথম নারী সভাপতি ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি পারভীন মাহমুদ এফসিএ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী, গ্রামীণ ফোন লিমিটেড চট্টগ্রাম রিজিওনাল হেড মোঃ মিনহাজ উল আলম, সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবদুল আজিজ, বিশিষ্ট ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক অরুণ শীল, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগর সংগঠক অধ্যাপক আলেক্স আলীম প্রমূখ।

বইপড়া কর্মসূচীর পুরস্কার বিতরণ উৎসবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শুধু বই পড়ে জ্ঞান অর্জন কিংবা বড় ডিগ্রি পেলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। শিক্ষার সঙ্গে মানবিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা না থাকলে সেই শিক্ষা সমাজ বা রাষ্ট্রের কোনো কাজে আসে না।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ডিসি বলেন, মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বই। বই এমন একটি বাহন, যা মানুষকে অতীতের কাছে নিয়ে যায়, বর্তমানকে বুঝতে শেখায় এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, নতুন প্রজন্মকে সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বলেন, আলোকিত মানুষ হতে হলে সর্বপ্রথম বইপড়ার দিকে মনোযোগী হতে হবে। ডিজিটাল যুগে এসেও বইয়ের পাতায় নিমগ্ন হওয়া ডিজিটাল যুগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দিন দিন বই পড়ুয়া যেমন কমে যাচ্ছে, ঠিক তেমন হারে বই পড়ুয়া গড়ে ওঠছে না। বই পড়লে যে কোন এক প্রান্তের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়। মোবাইলের অপব্যবহারকে ত্যাগ করে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তবেই নিজেকে জানার মাধ্যম তৈরী হবে।

বক্তারা আরও বলেন, বই পড়লে নিজেকে জানবে, স্বপ্ন দেখবে, তা পূরণে ছুটে চলবে। বই পড়ার ফলে মানুষ নিজেকে যাচাই করতে পারে। আলোকিত মানুষ হতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই আমরা অনেকভাবে পড়তে পারি, কিন্তু আমাদেরকে হতে হবে সুস্থ মস্তিস্কেও বই পড়ুয়া।

বক্তারা বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ বিপুল জনগোষ্ঠী। প্রতিটি মানুষকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে। দেশের মেধাবী তরুণদের মেধা ও দক্ষতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যেতে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ে নিজেদের প্রস্তুুত করতে হবে।

Advertisement