সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেকের পানির ধারণ ক্ষমতা তথা কর্ণফুলী নদীর পানির প্রবাহের উপর নির্ভর করে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির উৎপাদন। কর্ণফুলী নদীর পানির প্রবাহ কমে গেলে রাঙ্গুনীয়াস্থ চট্টগ্রাম ওয়াসার সর্ববৃহৎ পানি শোধনাগার কর্ণফুলী-১ও ২ এর পানি উৎপাদন হ্রাস পায় এবং পাশাপাশি নদীর পানি প্রবাহ কমে গেলে সমুদ্রের পানি হালদা নদীতে প্রবেশ করায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। এসময় হালদা নদীর তীরে অবস্থিত ওয়াসার দুইটি পানি শোধনাগার যথাক্রমে মোহরা ও মদুনাঘাট পানি শোধনাগারে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। এপ্রেক্ষিতে লবণাক্ততা পরিহারের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসা মোহরা ও মদুনাঘাট পানি শোধনাগারের উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এরূপ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম শহরে সুপেয় পানি সরবরাহ ৮ থেকে ১০কোটি লিটার হ্রাস পায় বিধায় মহানগরীতে পানির জন্য হাহাকার ও জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়। চলতি মাসে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে জানা যায়, কাপ্তাই লেকের পানি ছাড়ার জন্য বিভিন্ন অংশীজনদের থেকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা আংশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, এভাবে চলতে থাকলে শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেকের পানির ধারণ ক্ষমতা অধিকহারে হ্রাস পাবে। ফলশ্রুতিতে পানির উৎপাদন হ্রাস পাবে এবং চট্টগ্রাম শহরে পানির জন্য হাহাকার ও জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হবে। এতে সকল অংশীজনকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
শুষ্ক মৌসুমে চট্টগ্রাম শহরে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিৎ করা এবং হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রে লবণাক্ততা অনুপ্রবেশ প্রশমন করার জন্য নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অন্তত ২ টি ইউনিট চালু রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা রয়েছে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৫ টি ইউনিট চালু রাখতে হয়৷ ১ অক্টোবর তারিখেও যদি লেভেল ১০৬ ফুট এমএসএল থাকে, এতে ১ মাস পর ১ নভেম্বর তারিখে পানি ১০২ ফুটে নেমে যেতে পারে (বিগত বছরের পর্যালোচনার ভিত্তিতে)। ১ নভেম্বর থেকে ২ টি করে ইউনিট চালু রাখলেও এপ্রিল মাসেই হ্রদের পানির উচ্চতা ৭০ ফুটে বা ডেড স্টোরেজে পৌঁছে যেতে পারে এবং এতে আর ১টি ইউনিটও চালু রাখা সম্ভব হবে না। তাই বর্ষা মৌসুমের শেষদিকে অধিক উচ্চতায় পানি সংরক্ষণ করা না হলে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ এবং নাব্যতা বজায় রাখা তীব্র সংকটের মুখে পড়তে পারে।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, কাপ্তাই লেকের ১০৯ফুট পানির লেভেলের মধ্যে কোন প্রকার বসতবাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশনা রয়েছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ১০৯ফুট পানির লেভেলের নিচেও অনেক স্থাপনা তৈরী হয়েছে যা উদ্বেগজনক। সুতরাং নিদের্শনা বহির্ভূত স্থাপনার কথা বিবেচনা করে কাপ্তাই লেকের পানি ছেড়ে দিলে সকল অংশীজনদের দূর্ভোগ পোহাতে হবে। এগুলো জনসম্পৃক্ত বিষয় বিধায় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং শহরে পানির জন্য হাহাকার তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আংশঙ্কা করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সুপেয় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এবিষয়ে প্রশাসন, অংশীজনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

















