ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাঈদ আল নোমানের সাক্ষাৎ

48

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

Advertisement

রোববার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত ‘সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারি ডায়ালগ অন এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’-এ অংশ নিতে গিয়ে এ সাক্ষাৎ করেন তিনি।

বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

সংলাপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাঈদ আল নোমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আন্তঃসীমান্ত সংকট কোনো একক দেশের উদ্যোগে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “জলবায়ু সংকট কোনো সীমান্ত মানে না; তাই আমাদের সমাধানও সীমান্তে আটকে থাকা উচিত নয়।”

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ, দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

দুই দিনের এই সংলাপের সভাপতিত্ব করেন সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফোরাম (SARPF)-এর চেয়ারম্যান ড. সঞ্জয় জয়সওয়াল। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসন সংসদ সদস্য জাহারাত আদিব চৌধুরী; ভুটানের জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী লিয়নপো ইয়ুনতেন ফুনশো; ইউএনওপিএস-এর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইস অ্যান্ড সাপোর্ট বিভাগের প্রধান ও ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. সামান্থা স্ট্র্যাটন-শর্ট; ভুটানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সোনোমি তানাকা; এবং ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (ISA)-এর নার বাহাদুর।

এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্য, সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নেন।

থিম্পুর এই সংলাপ থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা হলো জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো একক দেশের সমস্যা নয়; এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন সংকট। আর এই অভিন্ন সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন অভিন্ন নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত পদক্ষেপ।

অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, দুর্যোগ ঘটে যাওয়ার পর শুধু ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ না থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে এখন থেকেই দুর্যোগ প্রতিরোধ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সমন্বিত প্রস্তুতিতে বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ জলবায়ুর কোনো সীমান্ত নেই তাই এর মোকাবিলার উদ্যোগও সীমান্তের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে পারে না।

Advertisement