নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ ও নগরবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি আবাসিক এলাকাগুলোর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা পরিদর্শনকালে চান্দগাঁও আবাসিক কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মেয়র চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সড়ক এবং নির্মাণযোগ্য সড়কগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে এলাকাবাসী ও কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নগরীর প্রধান সড়কগুলো নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়ে আমি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে নগরীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। নগরবাসীর চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে একটি নগরের যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু প্রধান সড়কের ওপর নির্ভর করে না। আবাসিক ও পাড়া-মহল্লার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও নাগরিকদের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, নগরীর প্রধান সড়কের উন্নয়নের পাশাপাশি এখন আবাসিক এলাকাগুলোর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। যেসব সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত, বৃষ্টির পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অথবা নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু রাস্তা নির্মাণ করলেই হবে না; পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ড্রেনেজ, ফুটপাত ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টিও সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হবে।
নগরীর সড়ক উন্নয়ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত বিভিন্ন সড়কের সংস্কার ও কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তবে ওয়াসাসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থা রাস্তা খনন করে কাজ করার কারণে অনেক ক্ষেত্রে চসিকের পক্ষে সঙ্গে সঙ্গে সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হয় না। সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো যখন রাস্তার নিচে তাদের কাজ করে, তখন সেই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা সড়কে স্থায়ীভাবে হাত দিতে পারি না। ওয়াসার কাজ শেষ হওয়ার পরই আমরা সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারি।
চসিক মেয়র বলেন, নগরবাসীর কাছ থেকে আমরা যে সমস্যাগুলো শুনছি, সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের মৌলিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আলো, নিরাপদ চলাচলসহ প্রতিটি নাগরিক সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক সংস্কারের নামে যেন বারবার একই জায়গায় কাজ করতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সড়কের বর্তমান অবস্থা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনা করে টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে কাজ করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে সরকারি অর্থেরও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এ এলাকার সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেছি। কোথাও সড়ক বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও নতুন করে সড়ক নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। এসব বিষয় চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবসম্মত ও পর্যায়ক্রমিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের পর সেগুলো দখল বা ক্ষতিগ্রস্ত না করা, যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলা এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই নগর উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মতবিনিময় সভায় চান্দগাঁও আবাসিক কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ এলাকার বিভিন্ন সড়কের সংস্কার, নতুন সড়ক নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে মেয়রের কাছে বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মেয়র তাদের সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ, চান্দগাঁও আবাসিক কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
















