গোমদন্ডী পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক

সরকারি বিধিতে নেই তারপরও চেয়ার আঁকড়ে আছেন, দোহাই দিচ্ছেন এমপির

48

অনিয়ম দুর্নীতি ও বোর্ড জালিয়াতির অভিযোগে একজন প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত হওয়ায় পর আর একজন দুনীতিবাজের হাতে পরে বোয়ালখালী সদরে ঐতিহ্যবাহি গোমদন্ডি পাইলট মডেল স্কুলের ত্রাহী অবস্থা। বিগত সরকারের সময়ে একজন এমপির আর্শীবাদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নানাবিধ অনিয়ম দূনীতিতে জড়িয়ে পরে এস এম খসরু পারভেজ নামের এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁর সময়ে বছর বছর স্কুলের ফলাফল বিপর্যয়, বিধি বহির্ভূত এফডিআর ভাঙানো, নিয়ম না মেনে স্কুল মার্কেটের দোকান বরাদ্দ,মূল্যবান গাছ বিক্রিসহ স্কুলের সহায় সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলাসহ নারী শিক্ষকের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এত অভিযোগের পরও অতিসম্প্রতি অবসরে যাওয়া এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে পুননিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে করে স্থানীয় অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্যর আর্শীবাদে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে গত ৫/৬ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক এস এম খসরু পারভেজ। এই ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকের অবসরে যাওয়ার সর্বশেষ তারিখ ছিলো গত ৩১ আগস্ট। এদিন ছিলো তাঁর শেষ কর্মদিবস। কিন্ত তিনি কৌশলে এখনও হেডমাস্টারের চেয়ারটি আঁকড়ে রয়েছেন । যা সরকারের সর্বশেষে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় অবৈধ। নিয়মঅনুযায়ী তার শেষ কর্মদিবসে পরবর্তী একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব বুজিয়ে দিয়ে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর । কিন্ত তিনি সে কাজটি করেন নি। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষ দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন স্কুল কমিটি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যর উপর।

নতুন করে আবারও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে স্কুলটির শৃঙ্খলা, দৈনন্দিন কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যহত হচ্ছে অহরহ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলটির বেশ কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষক এই অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে ভারপ্রাপ্ত এই প্রধান শিক্ষক তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে- ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রশ্রয় দেয়া, সরকার,শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়ম ও নির্দেশ অমান্য করেছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ গত ২৫ আগস্ট স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ইউএনও অফিসে ডেকে নিয়ে জনসমক্ষে তিরস্কার করেন এক পর্যায়ে ক্ষমা চেয়ে কিছুটা নিস্তার পান এ প্রধান শিক্ষক। তবে এলাকাসীর অভিযোগ এটা ছিল এমপি সাহেবের আই ওয়াশ মাত্র । অভিভাকদের অভিযোগ তিরস্কার করলেও কি হবে- সরকারি বিধি অমান্য করে একজন দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য লোককে অবৈধভাবে চেয়ারে বসিয়ে রেখে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমসহ সামগ্রীক পরিবেশ ধ্বংস করা আর কিছুই হবে না। অভিভাকদের অভিযোগ কারা এই দূনীতিবাজ অযোগ্য ব্যক্তিকে অবসরের পরও প্রধান শিক্ষক পদে পুননিয়োগ দিতে এমপি সাহেব প্রভাবিত করেছে তা জানতে আগ্রহী।

অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম খসরু পারভেজ বলেন- নিয়ম মেনে আমি চলে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ম্যনেজিং কমিটি আমাকে রিলিজ দিচ্ছে না,তাঁরা বলেছেন এমপির ডিও লেটার ও মাউশির অনুমোদন তারা এনে দিবেন। অপেক্ষায় আছি অনুমোদন পেলে থাকবো না পেলে চলে যাবো আর কি।

এ বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শওকত আলম কথা বলতে তাঁর মোবইল ফোনে ফোন করে পাওয়া যায়নি।

Advertisement