দোহাজারীতে এসআই সাইফুলের বিরুদ্ধে ইয়াবাকারবারীদের নতুন চক্রান্ত, নেপথ্যে বড় সিন্ডিকেট

47

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌর সদর এলাকায় দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস আই সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইয়াবা পাচারকারী চক্রের সদস্যরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে।

Advertisement

ইয়াবা পাচারকারী, চুরি ছিনতাই, ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এস আই সাইফুল ইসলামকে ফাঁসাতে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। একের পর এক সফল অভিযান এবং মাদক সিন্ডিকেটের গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি সময়ে এস আই সাইফুলের নেতৃত্বে একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারসহ বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রে যোগদানের পূর্বে এসআই সাইফুল রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ হিসেবে দীর্ঘদিন ( প্রায় ১ বছর) দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ০৫ আগষ্ট/২৪ এ রাউজান থানা হতে লুট কৃত বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে দক্ষতার সাথে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। এছাড়াও দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি অবৈধ চোলাইমদ,ইয়াবা উদ্ধার সহ এসবের সাথে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় নিয়ে আসেন।

প্রায় ১৫/ থেকে ২০ জন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কারবারীকে গ্রেফতারসহ ০৬ টি বিদেশি পিস্তল এবং ১৫ টি দেশীয় তৈরি বিভিন্ন ধরনের এলজি, পাইপগান উদ্ধার করে জেলা পুলিশের প্রসংশা অর্জন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে তাকে দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দোহাজারী সাঙ্গু নদীর উভয়পাড়ে তিলে তিলে গড়ে উঠা মাদকের আস্তানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৯ মাসে অবৈধ চোলাইমদ, ইয়াবা সহ গ্রেফতারপূর্ব মাদক কারবারিদের প্রায় ১৮/২০ টি মাদক মামলা দেন।

বিভিন্ন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার, নিয়মিত ওয়ারেন্টধারী আসামি গ্রেফতার থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি কঠোর অবস্থানে থাকায় অনেক সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এখন এলাকাছাড়া। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর থেকে দোহাজারী এলাকা চুরি, ছিনতাই, মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়।

দোহাজারী সাঙ্গু নদীর উভয় তীরে গড়ে উঠা রোহিঙ্গা কলোনী যেখানে প্রায় ১০/১২ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করে যাদের সুনির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই,তাদের উপার্জনের একমাত্র উৎস মাদক ব্যাবসা, জুয়া, চুরি – ছিনতাই করা। বিগত সরকারের পতনের পর থেকে তিনি যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত এই দুই রোহিঙ্গা কলোনীতে সেনাবাহিনীর টিম ছাড়া পুলিশ অভিযান করতো না।

চন্দনাইশ সেনাবাহিনী ক্যাম্প তুলে ফেলার পর থেকে আর কখনো পুলিশ এসব কলোনীতে অভিযানের সাহস করেনি স্থানীয়ভাবে জানা যায়। বিভিন্ন সুশীল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগরিকের বরাতে জানা যায়, এসআই সাইফুল যোগদানের পর থেকে সমগ্র দোহাজারী ও রোহিঙ্গা কলোনী সমূহে পুলিশি কার্যক্রম গতিশীল করায় দোহাজারী এলাকায় চুরি ছিনতাই বন্ধ, মাদক কারবারিরা আতংকের সাথে দিনযাপন করছে।

মাদককারবারি ও স্থানীয় চাঁদাবাজরা বিভিন্নভাবে বশে আনার চেষ্টার অংশ হিসেবে প্রভাবশালী স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে সাপ্তাহিক বা মাসিক টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করলে তিনি উক্ত অবৈধ প্রস্তাব গ্রহণ না করে অভিযান আরো জোরদার করেন। যার ফলশ্রুতিতে উক্ত মাদকস্পট,জুয়ার স্পট, রোহিঙ্গা নবজাতক শিশু ক্রয়- বিক্রয়ের সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নোংরা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে তৎপর হয়ে উঠে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, মাদক কারবারীরা কৌশল বদলে এখন এসআই সাইফুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি, ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির কাল্পনিক অভিযোগ তুলছে। এমনকি মিথ্যা ও সাজানো তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচার চালিয়ে তাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার মাদক সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। যারা ইয়াবা ও মাদকের সাথে জড়িত, তাদের কাছে পুলিশ সবসময়ই আতঙ্কের নাম। নিজেদের অপরাধ ঢাকতেই মাদক কারবারীরা নানা চক্রান্তে মেতে উঠেছে, তবে কোনো মিথ্যা অভিযোগে আমাদের অভিযান থামানো যাবে না। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।

Advertisement