এনসিটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড, সিসিটির দায়িত্ব পাচ্ছে আরএসজিটি

40

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রক্রিয়া মোটামুটি চূড়ান্ত করেছে সরকার। একই সময়ে, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার জন্য সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে (আরএসজিটি) অপারেটর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

Advertisement

এনসিটির ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৫ বছরের একটি খসড়া চুক্তি অনুমোদন করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি হবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের। তবে অনুমোদনের সরকারি ঘোষণায় অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। যদিও গত কয়েক মাস ধরে এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে প্রস্তাবিত এনসিটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় সহায়তার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড শুধু এনসিটি নয়, এর পাশের সিসিটিও আধুনিকায়ন করে দুটি টার্মিনালকে সমন্বিতভাবে পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে সিসিটির ক্ষেত্রে সরকারের সর্বশেষ পদক্ষেপ ভিন্ন। ২৮ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে সিসিটির অপারেটর হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সিসিটি ও সাধারণ কার্গো বার্থ পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

এর আগে সিসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ড ও রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল— দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানই প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। ফলে সিসিটির ক্ষেত্রে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে বেছে নিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখন সামনে এসেছে।

অন্যদিকে এনসিটি নিয়ে সরকারের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তাদের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে তুলে না দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনেই পরিচালনা করা উচিত। এ নিয়ে ৫ অক্টোবর বন্দর এলাকায় অবস্থান ধর্মঘট ও গণ-অবস্থানের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। দাবি মানা না হলে পরবর্তী সময়ে ২৪ ঘণ্টা বন্দর অচলসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সরকার এটা নিয়ে সচেষ্ট।

এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সাল থেকে এ নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই বছর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। পরে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের পথ তৈরি করতে নীতিমালা ও আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়। ২০২৩ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় এনসিটি পরিচালনার নীতিগত অনুমোদন দেয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশনকে লেনদেনবিষয়ক পরামর্শক নিয়োগ করা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যায়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। চুক্তির খসড়া, দরপত্রসংক্রান্ত সংশোধন, কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হয়।

তবে চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগের মধ্যে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধিতা শুরু হয়। আন্দোলন ও ধর্মঘটের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করে। একই সময়ে ডিপি ওয়ার্ল্ড খসড়া চুক্তির বিষয়ে আরও সময় চাওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চুক্তি সই হয়নি।

Advertisement