রেলওয়ের ভূমি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় মানববন্ধন

300

ভূমিদস্যু জাতীয়পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজ গং-দের হাত থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূমি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে নগরের আকবরশাহ মাজার সংলগ্ন কাট্টলী সার্কেল ভূমি অফিসের সম্মুখে মানববন্ধন করেছে রেলওয়ে সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ।

Advertisement

রেলওয়ে রানিং স্টাফ কমর্চারী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাউজিং সোসাইটি সমাজ কল্যাণের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম, কারিগরি পরিষদের সভাপতি এসকে বারী, রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনে সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী, রেলওয়ে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এমআর মঞ্জু।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ভূমি অফিস ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে কর্মরত ফ্যাসিস্ট সরকারের কতিপয় দোসর জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজ গংদের সঙ্গে যোগসাজশ করে রেলওয়ের সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছেন। সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদ ও সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে বক্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তাঁরা বলেন, রেলওয়ের সম্পত্তি দখলের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।

এ সময় গত জুন মাসে বদলি হওয়া সংশ্লিষ্ট কানুনগো এখনো কীভাবে স্বপদে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তাঁরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান। অন্যথায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

মানববন্ধনে রেলওয়ে শ্রমিক দল, বিআরইএল, রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতি, কারগরি পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক রেলওয়ের সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং জিএম পূর্বকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। যা নিম্নরূপঃ

চট্টগ্রাম জেলার সাবেক ডবলমুরিং হাল আকবরশাহ থানাধীন লট নং-৯ পাহাড়তলী মৌজার আর.এস জরিপের বিভিন্ন দাগে তৎকালীন আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানী লিমিটেড এর অনুকূলে এল.এ মামলা নং- ০৪/১৯৩৩-১৯৩৪ মূলে ১০.৬২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। যাহা কলকাতা গেজেট ডিকলারেশন নং- ১৩৫৬৮ এল.এ তারিখ ২১/১১/১৯৩৩ এর গেজেট বিজ্ঞপ্তি পৃষ্ঠা নং- ১৭২০ এর মাধ্যমে প্রকাশিত।

উল্লেখিত জমির ক্ষতিপূরণ ভূমি মালিকদের যথাযথ ভাবে প্রদান করা হয়। সে নিরিখে গেজেট ও এল এ প্লেন অনুযায়ী বিভিন্ন আর এস দাগ মূলে মোট ১০.৬১৬৭ একর বা ১০.৬২ একর ভূমি গত ০৫.০৮.১৯৩৪ খ্রি. তারিখে তৎকালীন কালেক্টর চট্টগ্রাম কর্তৃক সাবেক আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের বরাবরে দখল হস্তান্তর করেন। নিম্নে বিভিন্ন তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করা হলো।

১। আর এস দাগ মূলে অধিগ্রহণকৃত ১০.৬২ একর ভূমির আব্ন্দর পি.এস/এস.এ ১২ নং খতিয়ানে ১৯, ২০ ও ২১ দাগের কিছু ভূমি রেলওয়ের নামে রের্কড হয়। কিন্তু ভুলবশত পি.এস/এস.এ ৫৪ নং খতিয়ানে ১৫ দাগে ৪.৮৮ একর ভূমি জৈনক নুর আহমদ পিতা আলী আহমদ সাং সরাইপাড়া নামে ভুল/অশুদ্ধ রেকর্ড হয়। যাহার কোন তথ্য তহসিল অফিস এবং সহকারী কমিশনার ভূমি কাট্টলী অফিসে নাই।

২। উক্ত ভুল রেকর্ড সংশোধনপূর্বক প্রচলিত বিধি-বিধানে স্বাভাবিকভাবে রেলওয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত না করে ভুলক্রমে সরকারের নামে ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত করে ১৯৮৮-১৯৮৯ সালে তৎকালীন সরকার জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক চাপে রেবেকা তুহিন গং ৪৩ জন এর নামে ৪.৮৮ একর ভূমি জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম বন্দোবস্ত প্রদান করেন।

৩। উক্ত ভূমি মন্ত্রনালয়ের স্বারক নং- ৭৫২ তারিখ: ০৯/০৯/১৯৯০ ইং মূলে রেবেকা তুহিন গং ৪৩ জন এর ভূমির পরিমাণ ৪.৮৮ একর বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়। উক্ত বাতিল আদেশ এর বিরুদ্ধে রেবেকা তুহিন গং কোন রিট পিটিশন দায়ের করেননি। কাজেই অন্যদের মামলার রায়ের আলোকে কোন প্রতিকার পাইতে পারে না।

81 সিভিল আপিল নং- ৫৩/১৯৮৬ তে রেলওয়ের স্বত্ব ঘোষিত হওয়ার পর আব্দুল হক গং বাদী হয়ে রেলওয়ের বিরুদ্ধে এডভার্স পজেশানের যুক্তি দেখায়ে চট্টগ্রাম ২য় সাব জজ আদালতে অপর ২৩/৯১ রেলওয়ে হাইকোর্ট সিভিল রিভিশন নং-৩২৫/১৯৯৭ দায়ের করেন। উক্ত মামলায় জেলা প্রশাসক কে পক্ষ করা হয়েছিল। মামলার রায়ে রেলওয়ের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে বাদী ক্ষিপ্ত হয়ে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে সিপিএলএ ৫১৬/২০০৫ দায়ের করলে রেলওয়ের পক্ষে/অনুকূলে মহামান্য আদালত রায় ঘোষনা করেন।

৫। ক্রমিক নং-৪ এর উল্লেখিত নিম্ন আদালত হতে সর্বোচ্চ আদালত তথা মাননীয় সুপ্রীম কোর্ট পর্যন্ত রেলওয়ের স্বত্ব ও স্বার্থ নিরুঙ্কুশ ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ২০০৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম মহোদয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুলিশ প্রশাসন এর সহযোগীতায় রেলওয়ের ৪.৮৮ একর ভূমিসহ ৭.৩২ একর ভূমি হতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে ইটের ওয়াল দ্বারা সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়। বর্তমানে ১০.৬২ একর ভূমি বাংলাদেশ রেলওয়ের দখলে আছে।

৬। এখানে উল্লেখ্য যে, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির লিঃ এর অনুকূলে এল.এ মামলা ০৪/১৯৩৩-১৯৩৪ মূলে অধিগ্রহণকৃত ১০.৬২ একর ভূমি বাংলাদেশ রেলওয়ের নামে নামজারী ও জমাভাগের জন্য গত ০৮/১২/২০০৯ ইং তারিখে প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কর্তৃক সহকারী কমিশার চান্দগাঁও রাজস্ব সার্কেল চট্টগ্রাম এর দপ্তরে একটি নামজারী মিস মামলা ৮৯/২০০৯ রুজু করা হয়। ইতোমধ্যে উক্ত ভূমির মালিকানা দাবী করে বিভিন্ন আদালতে কয়েকটি পক্ষ মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার ভূমি কাট্টলী সার্কেল চট্টগ্রাম কর্তৃক গত ১৮/০২/২০২০ তারিখে মিস মামলা ৮৯/২০০৯ এর কার্যক্রম স্থগিত আদেশ জারী করেন। বর্তমানে সকল মামলার রায় রেলওয়ে স্বত্ব নিরুঙ্কুশ ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শরিফজান বিবির ছেলে আব্দুল হক উক্ত সম্পত্তি Adverse Possession এর মালিকানা দাবী করে পুনরায় মাননীয় ২য় সাব-জজ আদালত চট্টগ্রাম এর আদালতে স্বত্ব মামালা নং- ২৩/৯১ দায়ের করেন। উক্ত মামলায় রেলওয়ের বিরুদ্ধে রায় হয়। রেলওয়ে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এফ.এ মামলা নং- ৩২৫/১৯৯৭ দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় আব্দুল হক গং পরাজিত হয়। উল্লেখিত মামলায় সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামকে পক্ষ করা হয়। উক্ত এফ.এ মামলা ৩২৫/১৯৯৭ এ আব্দুল হক গং পরাজিত হয়ে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে সি.পি.এল.এ মামলা নং- ৫১৬/২০০৫ দায়ের করেন। উক্ত মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত মাননীয় সুপ্রীম কোর্টে আপিল বিভাগ রায় রেলওয়ের অনুকূলে উক্ত ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।

মাননীয় জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম কর্তৃক ২য় সাব-জজ আদালতে বিরোধীয় ভূমি নিয়ে আব্দুল হক গং কে বিবাদী করে অপর মামলা-১৫৩/৯১ দায়ের করেন। মামলায় সরকারে পক্ষে রায় হয়। উক্ত মামলায় রেলওয়েকে পক্ষ করা হয়নি। এক্ষেত্রে একতরফা রায়ের কোন কার্যকারিতা নাই। উক্ত মামলা পক্ষ দোষে দুষ্ট। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, রেলওয়ের বিপক্ষে আব্দুল হক গংদের করা মামলায় দেশের সবোর্চ্চ আদালতের রায়ও রেলওয়ে স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম মহোদয় স্বত্বহীন একই ব্যক্তি আব্দুল হক গং কে বিবাদী করে মামলা দায়ের করা ভিত্তিহীন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্বারক নং- ৩৪ তারিখ: ০৯/০১/২০১২ এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামকে পত্রের মাধ্যমে জানতে চান যে, জনাব আব্দুল হক গং ৫১৬/২০০৫ লীভ টু আপিল মামলার বাদী আব্দুল হক গং এবং ২য় সাব জজ আদালতে দায়েরকৃত ১৫৩/৯৯ নং মামলার বিবাদী আব্দুল হক গং একই ব্যক্তি কিনা? উত্তরে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম ০৮/০২/২০১২ ইং তারিখে পত্রের মাধ্যমে জানিয়েছেন ৫১৬/২০০৫ লীভ টু আপিল মামলার বাদী আব্দুল হক গং এবং ১৫৩/৯৯ নং মামলার বিবাদী আব্দুল হক গং একই ব্যক্তি। এই উক্ত বিষয়গুলো ভূমি মন্ত্রণালয়ে মিমাংশিত হয়েছে।

মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক সিভিল আপিল নং-৫৩/৮৬ এবং সিপিএলএ মামলা- ৫১৬/২০০৫ রেলওয়ে অনুকূলে এবং ভূমি মন্ত্রণালয় এর সর্বশেষ চিঠি স্বারক নং- ৩১.০০.০০০০.০৪৩,৬৭.০৩৪.১৪.৪৮ তাং-০৩/০৬/২০২৬ খ্রিঃ জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম দ্বারক নং- ০৫.৪২.১৫০.০০০০.৩০২.২৫.১৬০০.১১.১৫৭৩ তারিখ: ৩০/০৭/২০২৬ খ্রি. এর মাধ্যমে সহকারী কমিশনার ভূমি কাট্টলী সার্কেলকে এল, এ মামলা নং- ৪/১৯৩৩-১৯৩৪ মূলে ১০.৬২ একর ভূমি বাংলাদেশ রেলওয়ের অনূকূলে রেকর্ড সংশোধন পূর্বক নামজারী ও জমাভাগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

সহকারী কমিশনার কাট্টলী রেলওয়ের নামে নামজারী মিস মামলা ৮৯/২০০৯ এর স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার পূর্বক রেলওয়ের নামে নামজারীর প্রক্রিয়া না করে ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বারক নং- ৭৫২ তারিখ ০৯/০৯/১৯৯০ ইং মূলে রেবেকা তুহিন গং ৪৩ জন এর ভূমির পরিমাণ ৪.৮৮ একর বাতিলকৃত বন্দোবন্তি তাছাড়া অননুমোদিত ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর বা আমোক্তার যাহা সংশ্লিষ্ট লিজটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিলযোগ্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তাছাড়া সরকারী এস্টেট ম্যানুয়েলের বিধান ও দলিলের শর্ত ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাতিকৃত বন্দোবস্ত। ভূমি ৪.৮৮ একর রেবেকা গং ৪৩ জনের পক্ষে সাবেক জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য জনাব সিরাজুল ইসলাম এর উল্লেখিত ভূমি দখলের প্রচেষ্ঠাকে সহকারী কমিশনার কাট্টলী সার্কেল সাহেব আরো উৎসাহিত করতেছে। এটা খুবই নিন্দনীয়। বর্তমান গনতান্ত্রিক সরকারের আমলে আওয়ামী ফেসিষ্ট সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ভূমি দস্যুদের সহযোগীতা করা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার। যাহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চট্টগ্রাম জেলা প্রাশাসক কার্যালয়ের স্মারক নং- ১০৭০ এর মূলে ফাইলে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাবেক জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য জনাব সিরাজুল ইসলাম ৪.৮৮ একর ভূমির দখলে নেওয়ার তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে একই ব্যক্তি ভূয়া জাতীয়তাবাদী দলের নেতা পরিচয় দিয়ে তদবির ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। অধিগ্রহণকৃত ভূমি ছিল ব্রিটিশ আমলে তারপর ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে পরবর্তীতে পিই রেলওয়েতে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এর অধীনে ১৯৫১ সাল থেকে বিভিন্ন ভূমি দস্যুদের সাথে মামলা মোকাবিলা করে যখন রেলওয়ে জায়গাটি দখলে নেয় ঠিক তখনি ফেসিষ্ট হাসিনার দোসর, গণতন্ত্র হত্যাকারী বিনা ভোটের সহযোগী জাতীয় পার্টির সিরাজগংরা উক্ত ভূমি প্রশাসনের সহযোগীতায় কবজা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য যে, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদ ও আরেক দোসর মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী গং রা এই সিরাজকে এতদিন সেল্টার দিয়েছে। ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর বহুরূপী ভূমিদুস্য সিরাজ সম্পূর্ণ ৩৬০ ডিগ্রি ভোল পাল্টিয়ে নব্য বিএনপি সেজে আমলাদের সহযোগীতায় রেলওয়ের ভূমি আত্মসাতের নীল নকসায় মেতেছে।

কাট্টলী সার্কেল ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের স্ববিরোধী অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া যায় পাহাড়তলী ভূমি অফিসে স্বারক নং- ৫৫৭নথিতেই ২০২৫ সালে পাহাড়তলী ভূমি অফিসের তহশিলদার জনাব জাকারিয়া অপর একটি কার্য মামলায় সরেজমিনে তদন্ত করে সমস্ত ঐতিহাসিক নথি পর্যালোচনা পূর্বক উল্লেখিত ১০.৬২ একই ভূমি রেলওয়ের অনুকূলে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। অথচ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে একই জমি এবং একই নথিপত্রের বিপরীতে কাট্টলী সার্কেলের এসি ল্যান্ড, কানুনগো এবং তহশিলদার সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। একই দপ্তর থেকে এক বছর আগে যে জমি রেলওয়ের বলে প্রত্যয়ন পায়। এক বছর পর তা ব্যক্তি স্বার্থে আটকে উল্টো প্রতিবেদন উপস্থাপন-কার ইশারায়? রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানতে চায়।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ জনাব হাবিবুর রশিদ এম.পি এর ডি.ও লেটার নং- ৩৫.০০.০০০০.০০১.০২৫.০১.০০.২৬/১.২৪৫ তারিখ: ২৪/০৯/২০২৬ খ্রি. মোতাবেক জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুকুলে নামজারি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সক্রিয় ভূমিকা ও ব্যক্তিগত সহযোগীতা কামনা করেন।

পরিশেষে চট্টগ্রাম জেলার সাবেক ডবলমুরিং হাল আকবরশাহ্ থানাধীন লট নং-৯ পাহাড়তলী মৌজার বিভিন্ন দাগে তৎকালীন আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানী লিঃ অনুকূলে এল, এ মামলা নং- ০৪/১৯৩৩-১৯৩৪ মূলে ১০.৬২ একর অধিগ্রহণকৃত ভূমি বর্তমান রেলওয়ে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা অবস্থায় রেলওয়ে ভূমি রেলওয়ে দখলে থাকা সত্বেও ভূমি দস্যু ও দখলদারদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্ঠারত কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি, কানুনগো তহশীলদার ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এখন স্পষ্ট।

অতত্রব, মহোদয়ের কাছে বিনীত আরজ, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সর্বশেষ প্রেরিত পত্র স্বারক নং- ৩১.০০.০০০০.০৪৩, ৭.০৩৪.১৪.৪৮ তারিখ: ০৩/০৬/২০২৬ খ্রি. এর নির্দেশনা মোতাবেক এল.এ মামলা নং-৪/১৯৩৩-১৯৩৪ মূলে অধিগ্রহণকৃত ১০.৬২ কর ভূমি বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুকূলে রেকর্ড সংশোধন ও নামজারী ও জমাভাগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাদানে মহোদয়ের আজ্ঞা হয়।

Advertisement