চট্টলা নিউজ ডেস্কঃ ‘ভিডিও নেন, আপনারা ভয় পাইয়েন না।’ এরপর আরও আশ্বস্ত করে ওই সেনাসদস্য বলেন, ‘ভয় পাইয়েন না, আমরা যদি বেঁচে থাকি, আপনাদেরও বাঁচিয়ে রাখবো।’
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলা এসব কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেও সংবাদকর্মীদের আশ্বস্ত করার এই দৃশ্যকে অনেকে দায়িত্ববোধ, সাহস ও সহমর্মিতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
যে পরিস্থিতিতে বলা হয় কথাগুলো
সাজেকে কয়েক দিন ধরে চলা সড়ক অবরোধের জেরে বৃহস্পতিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অবরোধের কারণে পর্যটক চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে সেখানে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নিতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার সময় সাজেকের উজোবাজার এলাকায় গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ ঘটনায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দায়ী করা হলেও সংগঠনটি গোলাগুলির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে, পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের সামনে পরিস্থিতি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এমন অবস্থায় তাঁদের ভিডিও ধারণ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করা এবং ভয় না পাওয়ার আশ্বাস দেওয়ার মুহূর্তটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
আলোচনায় দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা
সাংবাদিকদের কাজ হলো ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনা মানুষের সামনে তুলে ধরা। তবে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ থাকে। এমন পরিস্থিতিতে একজন সেনাসদস্যের কাছ থেকে পাওয়া আশ্বাস সংবাদকর্মীদের সাহস জোগানোর পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটির প্রশংসা করা ব্যক্তিরা সেনাসদস্যের সাহসী ও আশ্বস্তকারী কথাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের কাছে এটি কেবল কয়েকটি বাক্য নয়; বরং বিপদের মুহূর্তে পাশে থাকার প্রত্যয়।
সংঘাতের কারণ ও দায় নির্ধারণের বাইরে, বিপদের মুহূর্তে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। সাজেকের এই মুহূর্তটি সেই দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার বিষয়টিকেই নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

















