সাতকানিয়া প্রতিনিধি: আধুনিকতার ছোঁয়া ও ডিজিটালাইজেশনের যুগে গ্রাম বাংলার হাজার বছরের পুরনো মেলার আনন্দ ও ঐতিহ্য দিন দিন বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘ সময় পর সেই হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্যকে আবারও ফিরিয়ে আনতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাণিজ্যিক কেন্দ্র কেরানিহাটে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী দেশীয় শিল্প পণ্য প্রদর্শনী ও উদ্যোক্তা মেলা বৈচিত্র্যময় পণ্য, বিনোদন ও লোকশিল্পের পসরা নিয়ে বসা এই মেলা ঘিরে পুরো এলাকায় এখন বইছে উৎসবের আমেজ।
বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্মের শিশুরা যখন ঘরের চার দেয়ালে বন্দী হয়ে স্মার্টফোন ও মোবাইল গেমের প্রতি তীব্রভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তখন এমন একটি মেলার আয়োজনকে অত্যন্ত ‘সময়োপযোগী পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মেলায় আসা স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, আজকালকার ছেলেমেয়েরা মোবাইল গেম আর ভার্চুয়াল জগতেই পড়ে থাকে। তারা গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প, মৃৎশিল্প বা তন্তুজ সামগ্রী চোখে দেখার সুযোগ পায় না। এই মেলার মাধ্যমে আমাদের শিশুরা গ্রামীণ কৃষ্টি ও দেশীয় শিল্পের সাথে সরাসরি পরিচিত হতে পারছে। এতে তাদের মানসিক ও মেধা বিকাশে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কেরানিহাটের মতো ব্যস্ত এলাকায় পরিবার নিয়ে খোলামেলা পরিবেশে ঘোরার এমন সুযোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
মেলা পরিচালনা কমিটির ইমরান জানান,
আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য কেবল বাণিজ্য নয়, বরং আমাদের শিকড় ও বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। যান্ত্রিক জীবনে বন্দি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মেলা এক দারুণ খোরাক জোগায়। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা পুরো মেলা প্রাঙ্গণে সিসিটিভি ক্যামেরা, নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রেখেছি। আশা করছি, মাসজুড়ে এই মেলা স্থানীয় পরিবারগুলোর জন্য বিনোদন ও ঐতিহ্য উদযাপনের এক মিলনমেলায় পরিণত হবে।
মেলায় স্থান পেয়েছে দেশীয় কুটির শিল্প, তৈরি পোশাক, প্রসাধন সামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্য, মৃৎশিল্প ও রকমারি খাবারের স্টল। এছাড়া শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগোরদোলা, ট্রেনসহ নানারকম আকর্ষণীয় রাইডের ব্যবস্থা। মেলার শুরুতেই দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

















