প্লাস্টিক জমা দিলেই ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ

ছুটির দিনে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় যাচ্ছেন? সঙ্গে নিয়ে যান পুরোনো প্লাস্টিক!

সংগৃহীত বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ইপসার সমঝোতা

36

চট্টলা নিউজ ডেস্কঃ ছুটির দিনে শিশুদের নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে বাসায় পড়ে থাকা পুরোনো প্লাস্টিকের বোতল কিংবা ব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রী সঙ্গে নিতে পারেন। কারণ, প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা।

Advertisement

শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে অংশগ্রহণ বাড়াতে গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ চালু করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। চিড়িয়াখানার সাধারণ প্রবেশমূল্য ৭০ টাকা হলেও ১০০ গ্রাম ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চার শতাধিক শিক্ষার্থী এই সুযোগ গ্রহণ করেছে।

সংগৃহীত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে ইপসার সঙ্গে সমঝোতা

শুধু প্লাস্টিক সংগ্রহ নয়, সংগৃহীত বর্জ্য যেন পরিবেশের জন্য নতুন সমস্যা তৈরি না করে, সে বিষয়েও উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গত ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নিয়মিত প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করবে। অন্যদিকে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ এসব বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন, পৃথকীকরণ ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করবে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি চিড়িয়াখানায় বর্জ্য সংগ্রহের পাত্র ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য এই সমঝোতা কার্যকর থাকবে। এ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন ও ইপসার মধ্যে কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।

সমঝোতা স্মারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি পাঠান মো. সাইদুজ্জামান। ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অর্থ) পলাশ কুমার চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, প্লাস্টিক সংগ্রহে মানুষের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে দেশে পুনর্ব্যবহারের বড় শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি চিড়িয়াখানার বাইরেও এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার বাস্তব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তির পাশাপাশি পাটসহ প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সবুজ চিড়িয়াখানা গড়ার পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে আরও সবুজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রায় ১৫০টি ডাবগাছ রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক। শিশুদের চিড়িয়াখানায় এসে পশুপাখি দেখার পাশাপাশি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার এবং কিছু সময় মুঠোফোনের পর্দার বাইরে বাস্তব পরিবেশে কাটানোর আহ্বান জানান তিনি।

শিশুদের হাত ধরেই শুরু হোক পরিবেশবান্ধব অভ্যাস

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয় বরং এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্বশীলতা তৈরির সঙ্গেও সম্পর্কিত।

শিশুরা যখন নিজের হাতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে জমা দেবে, তখন তারা বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বুঝতে শিখবে যে, যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং সঠিক ব্যবস্থাপনায় সেটিই পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ হতে পারে।

তাই ছুটির দিনে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় যাওয়ার আগে বাসার পুরোনো প্লাস্টিকগুলো আলাদা করে রাখুন। ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী হলে ১০০ গ্রাম ব্যবহৃত প্লাস্টিক সঙ্গে নিয়ে গিয়ে বিনামূল্যে প্রবেশের এই সুযোগ গ্রহণ করুন।

পরিবেশ রক্ষার শিক্ষা শুরু হোক পরিবার থেকে, অভ্যাসে পরিণত হোক শিশুদের হাত ধরে। আর ভ্রমণ পরবর্তী আপনার অভিজ্ঞতা জানাতে লিখুন চট্টলা নিউজকে। আমরা আপনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে দিব পুরো চট্টগ্রামকে।

Advertisement