চন্দনাইশে স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্কে ঘুরাঘুরি -একাধিক শিক্ষার্থীকে আটক

1

চন্দনাইশ প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় স্কুল/কলেজ ফাঁকি দিয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন পর্যটন স্পট ও পার্কে (যেমন: ঝাউবাগান ও কাঞ্চনচূড়া) ঘোরাঘুরির সময় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে একাধিকবার শিক্ষার্থীরা আটক হয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আবদুর রহমান-এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে (বিভিন্ন সময়ে ১৭ থেকে ৩৫ জন পর্যন্ত) আটক করা হয়।

আটককৃত শিক্ষার্থীদের কোনো রকম কঠোর শাস্তি না দিয়ে তাদের কাউন্সেলিং করা হয় এবং মুচলেকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের এমন আচরণর শিক্ষক,অভিভাবকদের মাঝে বেশ দুশ্চিন্তা হয়ে দাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্কে বা বিনোদনকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ঘোরাঘুরি করার প্রবণতাকে শিক্ষাবিদ,সমাজবিজ্ঞানী এবং মনোবিজ্ঞানীরা একটি বহুমাত্রিক সামাজিক ও মানসিক ব্যাধি হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, এটি কেবল সাধারণ কোনো কিশোরসুলভ চপলতা নয়, বরং এর পেছনে পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর সংযোগ রয়েছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে,বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা ও পারিবারিক প্রত্যাশার চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী সাময়িক স্বস্তির জন্য পার্ক বা বিনোদনকেন্দ্রগুলোকে বেছে নেয়। যেসব পরিবারে বাবা-মা সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেন না, সেসব পরিবারের সন্তানদের মধ্যে একা থাকার ভয় এবং বাইরে বন্ধুদের সাথে অযথা সময় কাটানোর প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে চন্দনাইশে যেসব বিনোদন স্পট রয়েছে সেখানে স্কুল চলাকালীন সময়ে প্রায় সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের এভাবে বাইরে ঘুরে বেড়ানোকে কিশোর বয়সীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থী। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের স্কুল ফাঁকি দিয়ে নির্জন পার্কে বা বাইরে ঘুরে বেড়ানোর প্রবণতা রোধে এবং অবাধ চলাফেরা বন্ধে আগামীতে আরো বেশি নজরদারি বাড়ানো হবে।

Advertisement