নিজস্ব প্রতিবেদন | চট্টলা নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মীরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া মসজিদিয়া এলাকায় বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় একটি বাস উল্টে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন মাইশা। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, একটি লরি পেছন থেকে ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে সড়কের পাশে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। এতে মাইশাসহ কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনায় রাজিয়া নামে আরেক শিক্ষার্থীও আহত হন।
সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক পারাপার ও দুর্ঘটনার বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধে সড়ক ও রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং কয়েকটি ট্রেন আটকে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল দুর্ঘটনায় জড়িত লরিচালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের দুই পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি সড়কের অবৈধ পার্কিং বন্ধ, দুর্ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহতের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও আশ্বাস দেন।
জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের আশ্বাসের পর মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও রেলপথ থেকে অবরোধ তুলে নেন। এতে কয়েক ঘণ্টা পর সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এদিকে মাইশার দাফনের সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজিজুল হক, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কাওসার আহমেদ, এমবিএ কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর জাহিদ হোসাইন চৌধুরীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাইশার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সামনে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ এবং মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণের দাবিগুলো নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

















