জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

37

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে কিংবা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

Advertisement

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই দিন সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। তাঁর মতে, ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন এবং দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেই ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হবে। অতীতের ইতিহাস নিয়ে সারাক্ষণ পড়ে থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ইতিহাসকে ভুলে গিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণের চেষ্টা করাও ভুল।

বাণীতে তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এসব ঐতিহাসিক আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা হিসেবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের কথা উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল বলে তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনামলের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে বলেও বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে হবে।

বাণীর শেষাংশে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয় হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান।

Advertisement