সালমান শাহ নেই ২৫ বছর

624

ঢালিউডের অমর নায়ক সালমান শাহ। মৃত্যুর ২৫ বছর পরও যার অভিনীত ছবি এখনো সমানভাবে প্রিয় দর্শক-ভক্তদের কাছে। যাকে বলা হয় বাংলা ছবির ফ্যাশন আইকন। জীবদ্দশায় মাত্র ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ১৯৯৬ সালের এই দিনে অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এ নায়ক। আজ তার ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

Advertisement

আত্মহত্যা করেছেন তিনি- এই মর্মে কয়েকবার তদন্ত সংস্থা তাদের প্রতিবেদনও দাখিল করেছেন আদালতে। যদিও তার পরিবার অর্থাৎ মা নীলা চৌধুরী এখনো সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা মানতে নারাজ। তার মতে খুন হয়েছেন এ নায়ক। সবকিছু ছাপিয়ে তার মৃত্যু এখনও রহস্যের আড়ালেই রয়ে গেছে। এদিকে প্রিয় নায়কের স্মরণে দেশজুড়ে সালমানের ভক্তরা নানা আয়োজন হাতে নিয়েছেন।

দোয়া, মিলাদ মাহফিলের মধ্যে প্রিয় নায়কের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হবে বলে জানা গেছে। সালমানের প্রয়াণ দিনে তার অবদান ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিও।

এটি অনুষ্ঠিত হবে এফডিসির শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। এছাড়া টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আজ এ নায়কের স্মরণে তার অভিনীত ছবি প্রচার করবে বলে জানা গেছে।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের দাড়িয়াপাড়ায় অবস্থিত নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। দুই ভাইয়ের মধ্যে সালমান বড় ছিলেন। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন কণ্ঠশিল্পী। ইমন নামে অভিনয় জীবন শুরু হয় বিটিভিতে শিশুশিল্পী হিসেবে।

দেশীয় সিনেমায় ধূমকেতু হয়েই যেন ধরা দিয়েছিলেন সালমান শাহ। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে পা রাখেন তিনি। একই সিনেমায় অভিষেক ঘটে চিত্রনায়িকা মৌসুমীরও।

সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে প্রথম সিনেমাতেই সাফল্যের দেখা পান সালমান শাহ। তার চলন-বলন ও পোশাক-পরিচ্ছদ তরুণদের মন জয় করে নেয়। নায়ক সালমান ও ব্যক্তি সালমান দুইটিই জনপ্রিয়তার শীর্ষ স্পর্শ করে।

সালমান শাহ ক্যারিয়ারের শুরুতে কাজ করেছেন ছোট পর্দায়। ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘দোয়েল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’তে নাটকে তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রচুর বিজ্ঞাপনও করেছেন তিনি।

সালমান শাহ অভিনীত সিনেমাগুলো হলো- কেয়ামত থেকে কেয়ামত (বিপরীতে মৌসুমী), তুমি আমার (শাবনূর), অন্তরে অন্তরে (মৌসুমী), কন্যাদান (লিমা), জীবন সংসার (শাবনূর), চাওয়া থেকে পাওয়া (শাবনূর), সুজন সখী (শাবনূর), বুকের ভেতর আগুন (শাবনূর), এই ঘর এই সংসার (বৃষ্টি), স্নেহ (মৌসুমী), বিচার হবে (শাবনূর), প্রেমযুদ্ধ (লিমা), মহা মিলন (শাবনূর), তোমাকে চাই (শাবনূর), বিক্ষোভ (শাবনূর), আশা ভালোবাসা (শাবনাজ), মায়ের অধিকার (শাবনাজ), আঞ্জুমান (শাবনাজ), আনন্দ অশ্রু (শাবনূর), প্রেম পিয়াসী (শাবনূর), সত্যের মৃত্যু নেই (শাহনাজ), প্রিয়জন (শিল্পী), শুধু তুমি (শ্যামা), স্বপ্নের পৃথিবী (শাবনূর), স্বপ্নের নায়ক (শাবনূর), দেন মোহর (শাবনূর) ও স্বপ্নের ঠিকানা (শাবনূর)।

‘বুকের ভেতর আগুন’ ছিল সালমান অভিনীত শেষ সিনেমা। তার সঙ্গে জুটি বেঁধে সবচেয়ে বেশি ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেন শাবনূর।

মাত্র তিন বছর বড় পর্দায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন সালমান শাহ। এই অল্প সময়েই তিনি দর্শকদের হৃদয় জয় করে একের পর এক উপহার দিয়েছেন সুপারহিট সিনেমা। অভিনয় করেছেন মোট ২৭টি সিনেমায়।

কিন্তু হঠাতই না ফেরার দেশে চলে যান এই নায়ক। ১৯৯৬ সালের আজকের এই দিনে ক্ষণজন্মা চিত্রনায়ক সালমান শাহ সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেয়ার দেশে।

নিজ ঘরে সালমান শাহ’কে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের একাধিক রিপোর্টে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলা হয়েছে। কিন্তু তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী।

Advertisement