জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত এবং ষড়যন্ত্রমূলক পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আহবান জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। আজ শনিবার (৬ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট এ আহবান জানান সুজন।
এ সময় তিনি বলেন কোন রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সকলকে হতভম্ব করে দিয়েছে। আর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে অনেকটা অযৌক্তিকভাবে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন মালিকরা। এতে করে সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী পরিবহন ও গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আর প্রতিবারের মতোই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারন নাগরিকদের। অন্যান্য পরিবহনে চড়ে গন্তব্যে যেতেও তাদের বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এদিকে বন্দর থেকেও খোলা কার্গো ডেলিভারি হচ্ছে না। এভাবে কয়েকদিন ডেলিভারি বন্ধ থাকলে বন্দরের ইয়ার্ডে বড়ো ধরনের জট তৈরি হওয়ার আশংকা রয়েছে। বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি এবং রপ্তানি কনটেইনার প্রবেশ বন্ধ থাকলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর পরিবহন ধর্মঘটের কারণে রপ্তানি পণ্য ছাড়া জাহাজ বন্দর ত্যাগ করলে বিদেশে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে।
বর্তমান সরকারের আমলে বন্দরের আধুনিকায়ন, নানা প্রকার সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ নানামূখী পরিকল্পনার ফলে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থান হ্রাস পেয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের গতি অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনাকালীন সময়েও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে চট্টগ্রাম বন্দর। অথচ সেই মূহুর্তে অযৌক্তিক পরিবহন ধর্মঘট ডেকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সরকারকে কি বার্তা দিতে চায় সেটাই এখন সচেতন মহলের প্রশ্ন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের চলমান বিশাল উন্নয়নের যে অগ্রগতি সেটাকে কারা পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করতে চায় তাদেরকে চিহ্নিত করে খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবী। পরিবহন মালিকদের উচিত হবে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে আলাপ আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা। সরকারও সবসময় পরিহন মালিকদের যৌক্তিক দাবী রক্ষায় বদ্ধপরিকর। কিন্তু তা না করে ধর্মঘটের নামে দেশের মানুষকে জিম্মি করা, পণ্য পরিবহন ও গণপরিবহন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন বিরোধী। এর আগে করোনাকালীন সময়ে সরকার অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের শর্ত দিয়ে গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল। স্বাস্থ্যবিধি মানার নানা নির্দেশনা থাকলেও পরিবহন মালিকরা কখোনই তা মানেনি। উল্টো গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহনের মধ্য দিয়ে ৬০ শতাংশের পরিবর্তে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছিল যাত্রীদের কাছ থেকে। পণ্য পরিবহনেও তারা যাচ্ছেতাই ভাড়া আদায় করছে। প্রায়শই তারা ঠুনকো অজুহাতে দাবী আদায়ের নামে ধর্মঘট করে মানুষকে জিম্মি করে। করোনা সংক্রমণের সময় প্রায় দেড় বছর দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান এবং পরীক্ষা আরম্ভ হতে শুরু করেছে। পাশাপাশি চাকুরি প্রার্থীদের ইন্টারভিউ ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পরীক্ষা পুরোদমে শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের শিক্ষার্থী এবং চাকুরি প্রার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই।
দেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের শারদীয়া দুর্গোৎসবে কুমিল্লার একটি পুজামন্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে ধর্মীয় উসকানি সৃষ্টি করে যারা দেশে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত ছিল তারা এ ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত কি-না তাও খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান সুজন।
















