মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতাকে বিবেচনায় রাখার অনুরোধ

205

মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতাকে বিবেচনায় রাখার অনুরোধ জানালেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং নাগরিক উদ্যোগ এর প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন। আজ শনিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৫টায় উত্তর কাট্টলীস্থ তাঁর নিজ বাসভবনে নাগরিক উদ্যোগের এক সভায় উক্ত অনুরোধ জানান সুজন

Advertisement

এসময় তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বের অর্থনীতি আজ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশসমূহ অর্থনীতির খড়ায় ভূগছে। দুই বছরের করোনার ক্ষতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন স্বাভাবিভাবে সারা বিশ্বব্যাপী একটি সংকট তৈরী করেছে। বাংলাদেশও সে সংকট থেকে দূরের কোন রাষ্ট্র নয়। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশকে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। এই আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের উপর নির্ভর করতে গিয়ে দেখা যায় যে কিছু কিছু পণ্যের অতিরিক্ত দাম বেড়ে যায় এবং যেটা ভোক্তাদের পরিশোধ করতে হয়। সরকার অনেক ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিয়ে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে আবার অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের অত্যধিক মূল্য বৃদ্ধি হয়। তাই যেকোনো মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতাকে বিবেচনায় রাখা একান্ত জরুরি। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে একটি গোষ্ঠী। তাই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি তাদের সে পরিকল্পনাকে বেগবান করতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষজন ডিজেলের উপর নির্ভরশীল। যাত্রী পরিবহণ এবং পণ্য পরিবহণে সাধারণত ডিজেল ব্যবহার হয়ে থাকে। তেলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে চক্রাকারে সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধি হবে। এতে করে সাধারন মানুষ আরো চাপে পড়বে। এছাড়া বাজার মনিটরিংয়ের দূর্বলতার কারণে মুনাফা লোভী চক্র প্রায়শই ভোক্তা সাধারণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলত সাধারণ জনগন আয় এবং ব্যয়ের সামঞ্জস্য খুজে পান না। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যধিক সাবধানতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানান তিনি। দেখা যাচ্ছে যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে সিএনজি চালিত পরিবহনের ভাড়াও অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সিএনজি চালিত পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি কোন অবস্থাতেই জনগন মানবে না বলেও হুশিয়ারি করেন তিনি।

তাছাড়া লোডশেডিংয়ের সময়সূচী নির্ধারণ এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি আহবান জানান তিনি। এক ঘন্টা কিংবা দুই ঘন্টা লোডশেডিং করার কথা বলা হলেও বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে গ্রাহকের অভিযোগ রয়েছে। তাই লোডশেডিংয়ের সময়সূচী গ্রাহকদের আগেভাগে জানিয়ে দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এতে করে গ্রাহকরা পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবেন। সরকার অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বন্ধ করার নির্দেশনা প্রদান করা হলেও বিভিন্ন মার্কেট কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বন্ধে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট চালুর অনুরোধ সুজনের। এছাড়া বিভিন্ন মার্কেট, বিপনী বিতান, হোটেল এবং বাণিজ্যিক ভবনে আগামী ছয় মাসের জন্য সেন্ট্রাল এসি বন্ধ রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবেলায় আগামী ছয় মাস জরুরি চিকিৎসাসেবা ছাড়া সকল প্রকার ট্যুরিস্ট এবং ভিজিট ভিসা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান সুজন। এছাড়া বিগত ছয় মাসে যারা বিদেশ গিয়েছেন, তারা কি কারণে বিদেশ গিয়েছেন তাও খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

দেখা যাচ্ছে যে হঠাৎ করে নগরীতে মাদকের বিস্তার, সিঁধেল চুরি এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়ে গিয়েছে। এসব অপরাধ কঠোর হস্তে দমন করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর নিকট অনুরোধ জানান সুজন। প্রয়োজনকে জনগনকে সাথে নিয়ে এলাকায় এলাকায় গিয়ে এসব অপরাধীদের প্রতিরোধ করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বার বার নগরীর হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি না করার ঘোষণা প্রদান করলেও সংস্থার এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা জনগনের উপর থেকে অযাচিত হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। হোল্ডিং ট্যাক্সের অতিরিক্ত ভ্যালুয়েশন দেখিয়ে সেটাকে আবার বিশাল অংকের উৎকোচের বিনিময়ে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সাধারণ করদাতা প্রতারিত হচ্ছে। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে জনগনের ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এসব অসাধু কর আদায়কারী কিংবা কর কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান তিনি।

সুজন আরো বলেন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সেবা সংস্থার নানাবিধ মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে প্রায়শই কোথাও না কোথাও রাস্তা খুড়তে হচ্ছে সেবাসংস্থাদের। এতে করে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ জনগনের। তাই উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি নাগরিকদের ভোগান্তি যাতে না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখার জন্য সেবাসংস্থার প্রধানদের নিকট অনুরোধ জানান সুজন।

অন্যদিকে গ্রাহকদের সেবার মান বৃদ্ধি কিংবা নগরীর প্রান্তিক এলাকাগুলোতে ওয়াসার পানি সরবরাহ না করে এখনই ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধি করা মোটেও সমীচীন হবে না বলে মত প্রকাশ করেন সুজন। এমনিতে জনগন বিভিন্ন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চাপে রয়েছেন। এ মূহুর্তে ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধি করলে গ্রাহকদের নাভিশ্বাস চরমে উঠবে। তাই ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি আপাতত স্থগিত রাখার জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানান তিনি।

Advertisement