যারা বাংলাদেশকে শ্রীলংকা বানাতে চায় তারা দেশ ও জাতির শত্রু বলে মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং নাগরিক উদ্যোগ এর প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন। আজ শনিবার (৩০ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ মত প্রকাশ করেন।
এসময় তিনি বলেন করোনা মহামারীর ধকল কাটিয়ে সারাবিশ্বের অর্থনীতি যখন গতিশীল হতে শুরু করেছে ঠিক তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সারাবিশ্বের অর্থনীতিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। যুদ্ধের ডামাডোলে সমগ্র বিশ্ব আজ সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। বিশ্বের উন্নত দেশসমূহের অর্থনীতিও এখন বিপর্যস্ত। সারা বিশ্বব্যাপী বর্তমানে যে সংকট চলছে সে সংকট থেকে বাংলাদেশও দূরে নয়। তারপরও ইউরোপ আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। এরকম একটি অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের পাশাপাশি তাদের দেশের রাজনৈতিক দলসমূহ এবং জনগন ঐক্যবদ্ধভাবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে। শুধু ব্যতিক্রম হচ্ছে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি।
শ্রীলংকার ভয়ানক অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়টিকে পুঁজি করে কতিপয় চক্রান্তকারী বাংলাদেশকেও শ্রীলংকা বানানোর অপচেষ্টায় জড়িত রয়েছে। কিছু কিছু টকশো, মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজে এ সংক্রান্ত নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। কতিপয় বুদ্ধিজীবি অনেকটা স্বপ্রণোদিত হয়ে দুইমাস কিংবা তিনমাসের মধ্যে বাংলাদেশ শ্রীলংকার মতো অবস্থায় পড়বে বলে সময় নির্ধারণ করে দিচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই সচেতন মহলের মনে প্রশ্ন জাগছে এরা কারা? কারা বাংলাদেশকে শ্রীলংকা বানাতে চায়? আর বাংলাদেশ শ্রীলংকা হলেই বা তাদের কি লাভ?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ করোনা মহামারীকালীন অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে খুব ভালোভাবেই এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন মন্দা অবস্থার দিকে তখনও বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রেখেছে। যুদ্ধের মাঝেও প্রবাসী আয়, রপ্তানী আয় এবং রিজার্ভে বাংলাদেশ তার অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। তারপরও কতিপয় নামসর্বস্ব বুদ্ধিজীবি প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
আপনারা সকলে জানেন বাংলাদেশ সরকার জনগনের নিত্য প্রয়োজনীয় বেশকিছু ভোগ্যপণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। বৈশ্বিক এ পরিস্থিতিতে পণ্যের অতিরিক্ত দামের সাথে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়াও যোগ হয়ে কিছু কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি হলেও সরকার সেসব পণ্যের উপর ভর্তুকি প্রদানের মধ্য দিয়ে এসব পণ্যের মূল্য জনগনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে। বর্তমান বিশ্বে জ্বালানী একটি মহামূল্যবান খনিজ সম্পদ। যুদ্ধের কারণে জ্বালানীর আন্তর্জাতিক মূল্য প্রতিনিয়তই উঠানামা করছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারের উপর অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করেছে।
বর্তমান সরকারও সর্বক্ষেত্রে কৃচ্ছতা সাধনের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের কৃচ্ছতা সাধনের যে কর্মসূচি সে কর্মসূচিকে সফল করার জন্যও সকলের নিকট অনুরোধ জানান তিনি। সাথে সাথে সরকারের উর্দ্ধতন মহলের প্রতিও সুজনের আহবান কৃচ্ছতা সাধনের জন্য একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে সর্বাগ্রে সরকারের উপর মহল থেকে ক্রমান্বয়ে নীচের মহলসহ সব জায়গায় সে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার জন্য। এমনকি প্রয়োজনে আগামী ছয় মাসের জন্য সকল প্রকার ট্যুরিস্ট ও ভিজিট ভিসা বন্ধ রাখারও আহবান জানান তিনি।
এছাড়া কৃচ্ছতা সাধনের কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপদান করার অনুরোধ সুজনের। তাছাড়া দেশের এ পরিস্থিতিতে উস্কানি, গুজব এবং অসত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে যারা পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান খোরশেদ আলম সুজন।

















