পহেলা ডিসেম্বরকে সরকারীভাবে মুক্তিযুদ্ধ দিবস ঘোষনার দাবী

198

পহেলা ডিসেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা আজ ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার নগরীর দারুল ফজল মার্কেটস্থ মুক্তিযোদ্ধা ভবনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ। মহানগর ডেপুটি কমান্ডার মোঃ শহীদুল হক চৌধুরী সৈয়দের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার একেএম সরোয়ার কামাল দুলু, সহকারী কমান্ডার একেএম আলাউদ্দিন, আবদুর রাজ্জাক, মোঃ বোরহান উদ্দিন, আহমেদ হোসেন, মহানগর ইউনিটের সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, মোঃ খোরশেদ আলম (যুদ্ধাহত), এফ এফ আকবর খান, মোঃ রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ ইউসুফ, জাকির হোসেন, আলী আহমদ, আলী হোসেন, এম মইনুল হোসেন, শামসুদ্দিন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, যে মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানাতে ১ ডিসেম্বরকে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ ঘোষণার দাবি করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযুদ্ধকালে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক দোসররা ইসলাম ও পাকিস্তান রক্ষার কথা বলে স্মরণকালের নৃশংসতম গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্বপ্ন এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
ডিসেম্বর মাস যেমন আনন্দের মাস, তেমনি বেদনারও মাস। ১৯৭১ এর ডিসেম্বরে আমরা যেমন বিজয় অর্জন করেছি, তেমনি হারিয়েছি আমাদের সূর্যসন্তান ও বুদ্ধিজীবীদের। আর সেই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতেই ১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণার দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের বহুদিনের। ২০০৪ সাল থেকে এ দাবি জানিয়ে আসছেন মুক্তিযোদ্ধারা। সরকারের সংশ্লিষ্টরা দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করলেও দেড় দশক ধরেই উপেক্ষিত রয়েছে এই দাবি।

বক্তারা আরও বলেন, অবশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রায় দুই দশকের দাবি পূরণ করতে প্রতিবছর ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে তা পালনের প্রস্তাব করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। সংসদীয় কমিটির এই প্রস্তাবে একমতও প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। প্রস্তাববটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের কথা থাকলেও এবারও ১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়াই পালিত হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা দিবস।

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের পহেলা ডিসেম্বর থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সারা দিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের পরাস্ত করতে শুরু করে। ফলে বিভিন্ন রনাঙ্গনে পাক বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি। তাই অবিলম্বে পহেলা ডিসেম্বরকে সরকারীভাবে মুক্তিযুদ্ধ দিবস ঘোষনা করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিনীতভাবে দাবী জানান । একইসাথে বিজয়ের এ মাসে রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর প্রতি আহবান জানানো হয়।

Advertisement