কামারের টুংটাং শব্দই জানান দিচ্ছে কুরবানির ঈদের। লাল আগুনের লোহায় কামারদের পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে কামার দোকানগুলো। চলছে হাঁপর টানা, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামার শিল্পীরা তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম।
এমনই একজন কামারশিল্পী ভগবত। নগরীর জেল রোড এলাকায় দা, বটি, চাকু, চাপাতিসহ পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বিক্রি করছেন ঈদুল আজহার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। দম ফেলার ফুরসত নেই। চলছে চাপাতি-চাকু শানের কাজ। টুংটাং শব্দই যেন ছন্দ, এ ছন্দেই যেন শক্তি ফিরে পান তিনি। সেই তালে প্রজ্জ্জলিত লাল আভায় হাতুরি আর ছেনির কলাকৌশল চালান নিজ হাতে।
রোববার বিকেলে কথা হচ্ছিল আর কামার অলোকময়ের সঙ্গে। অনেকটা কষ্ট চাপা দিয়েই জানালেন এখন আর আগের মত সারা বছর বেচাকেনা হয় না, তবে কুরবানির ঈদে কদর বাড়ে তাদের। এ সময়ে কাজ বেশি থাকায় লাভটাও একটু বেশি। কিন্তু লোহা,কয়লা আর মজুরির কারণে খরচটাও বেশি। তিনি আরো জানান, তার বাবা হারাধনের পথ ধরেই এ কাজ করে আসছেন তিনি, টুংটাং ছন্দের সুর শিখিয়েছেন নিজ সন্তানদেরও, তাই পরিচিত ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। দোকানের বাঁ পাশে শান-যন্ত্র, অন্যপাশে ছুরি, চাপাতি, দা, বটিসহ নানা ধারালো জিনিসপত্র, সাথে আছে শান দেওয়া নতুন কাবাবের শিকও।
ছুরি-চাপাতির দাম জানতে চাইলে শিল্পী রাজনাথ বলেন, মান ভেদে নতুন ছুরি ২০০-৬০০ টাকা, বটি ৩০০-৮০০ টাকা, দা, চাপাতি ৩০০-১০০ টাকা ও জবাই ছুরি ১২০০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরের ফিরিঙ্গি বাজার। দোকানের নাম ‘মা জননী’। সেখানেই পারিবারিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন দশম শ্রেণি পড়ুয়া সীমান্ত দাশ। বাবা উপন কুমার দাশ ও মা ববিতা রানী দাশকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করছেন ছেলে সীমান্ত। কোরবানির ঈদে কাজের চাপ বেশি থাকায় সময় দিচ্ছেন তিনি। প্রায় ৬০ বছর ধরে তার পরিবার এ কাজের সঙ্গে যুক্ত।
সীমান্ত বলেন, আমার জ্যাঠা-জ্যাঠুও এ কাজে যুক্ত, তবে তারা আলাদাভাবে কাজ করেন। আমার দাদাও এ কাজ করতেন। বাবা ৩০ বছর ধরে করছেন। সবমিলিয়ে ৬০ বছরের পুরোনো ব্যবসা আমাদের।
তিনি আরও বলেন, খদ্দেরই নেই, বেচাকেনা কম। আর মাত্র তিনদিন পর ঈদ। এ সময়ে জমে ওঠার কথা দা-বটির বাজার, অথচ এবার বিক্রিই নেই। ক্রেতারা আসছেই না। এখন ঈদ এগিয়ে আসতে আসতে যদি বিক্রি কিছুটা বাড়ে, সেই লক্ষ্যেই থেমে না থেকে একের পর এক জিনিসপত্র তৈরি করছি।
কোরবানির সরঞ্জাম কিনতে আসা নগরের অক্সিজেন এলাকার নয়ারহাটের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবরার বলেন, কয়েকদিন পরেই ঈদ। গরু ও ছাগল জবাই দিতে মাংস কাটতে প্রয়োজন চাকু ও ছুরির। সে কারণে বাজারে এসেছি দা, বটি ও ছুরি কিনতে। আগের থেকে দাম সামান্য বেশি, তারপরও কিনছি।
















