চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মো. শামসুল হকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাকে চৈতন্য গলি বাইশ মহল্লা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার কবরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তিনি মঙ্গলবার (৮ জুন) সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন।
তিনি মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা উত্তরার আত্বীয়ের বাসায় হার্ট অ্যাটাক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে উত্তরার ক্রীসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সবার মাঝে বিষাদের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঢাকায় অবস্থানরত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে সমবেদনা জানান।
চট্টগ্রামে মৃত্যুর সংবাদ আসামাত্রই নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর তার বাসায় ছুটে গিয়ে পরিবারকে শান্তনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে জানাজার সময় এবং কবরস্থানের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। সন্ধ্যায় ডা. শাহাদাত হোসেন ঢাকা থেকে তার লাশবাহী এম্বুলেন্স এনায়েত বাজারের বাড়িতে নিয়ে আসলে তখন কান্নার রোল পড়ে যায়। এমন একজন উদীয়মান সংগঠক, সদা হাস্যোজ্বল ও সকলের প্রিয় মুখ মানুষের অকাল মৃত্যুতে গোটা এলাকায় নামে শোকের ছায়া। হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তার বাড়িতে আসে এবং এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসময় স্বজন, সহপাঠিসহ সকলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
রাত নয়টার পরে এনায়েত বাজার শাহী জামে মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, আওয়ামী লীগ নেতা এড, ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও হাজার হাজার মুসল্লী জানাজায় অংশ গ্রহণ করেন।
জানাজার আগে ডা. শাহাদাত হোসেন মুসল্লীদের উদ্যেশ্যে বলেন, শামসুল হক বিএনপির একজন দায়িত্বশীলনেতা ছিলেন। চট্টগ্রামে যুবদলকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিনত করতে তিনি গুরুতপূর্ন ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ত্যাগী, সৎ, সাহসী, কর্মীবান্ধব ও নিবেদিত প্রাণ নেতা। তার অমায়িক আচরণের জন্য তিনি দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিকট ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত বিশ্বস্ত প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার মৃত্যুর সংবাদে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মতো আমাদের কাছে অত্যন্ত কষ্টের। তার মৃত্যুতে বিএনপি দলের একজন যোগ্য নেতাকে হারালো। তার মৃত্যুতে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হবে তা সহজে পূরন হবার নয়। তাঁর সংগ্রামী ভূমিকার জন্য তিনি দলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এত বড় গুণী ব্যক্তি হওয়ার পরও মানুষ কতটা নিরংহকারী হতে পারেন শামসুল হক ছিলেন তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
শামসুল হকের অকাল মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শোক প্রকাশ করেন।
মুত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি মা, স্ত্রী, ৩ ছেলে, ভাই বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, আত্মীয় স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে গেছেন।

















