চবিতে BNQF-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে একাডেমিক কারিকুলাম পরিমার্জন ও OBE বাস্তবায়নে বিশেষ কর্মশালা

74

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (BAC) নির্দেশনা মোতাবেক ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘অভিন্ন সেমিস্টার পদ্ধতি’ ও ‘আউটকাম-বেজড এডুকেশন’ (OBE) কারিকুলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর একটা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিশেষ এক কর্মশালা চবি উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) দপ্তরের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এর সহযোগিতায় এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। চবি একাডেমিক কাউন্সিলের ২৪৯তম সভা এবং ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই আমূল পরিবর্তনসমূহ সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল BNQF অনুযায়ী ক্রেডিট সংশোধন, অভিন্ন সেমিস্টার ক্যালেন্ডার প্রণয়ন এবং OBE ভিত্তিক আধুনিক কারিকুলাম ডিজাইন।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন।

উক্ত কর্মশালায় প্রতিটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সভাপতি বা পরিচালকসহ ‘প্রোগ্রাম সেলফ অ্যাসেসমেন্ট’ (PSA) কমিটির সদস্য এবং কারিকুলাম পরিমার্জনের সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। এক্ষেত্রে প্রতিটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে মোট ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় টেকনিক্যাল সেশন পরিচালনা করেন চবি আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. শাহাদাত হোছাইন ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন।

কর্মশালায় বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান পরিবর্তন ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে Bangladesh National Qualifications Framework (BNQF) এবং Outcome-Based Education (OBE) কারিকুলাম বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও দক্ষ করে গড়ে তোলাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে এখন থেকে ফলাফল-নির্ভর বা ‘আউটকাম বেজড এডুকেশন’ (OBE) মডেল অনুসরণ করা হবে। এই পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থী কোর্স শেষে নির্দিষ্ট কোন কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে, তা আগেই নির্ধারণ করা থাকবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য বাস্তবমুখী শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি বিভাগের পাঠ্যক্রম বা রোডম্যাপ নতুন করে সাজানো হচ্ছে।

BNQF-এর বিভিন্ন স্তরের বিবরণ এবং মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে। এর ফলে চবি শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা বা চাকুরির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন। এই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘ক্রেডিট ট্রান্সফার’ এবং ‘আজীবন শিক্ষা’ (Lifelong Learning) পদ্ধতি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে অর্জিত ক্রেডিট স্থানান্তরের সুযোগ পাবেন। এছাড়া শিক্ষাজীবনে কোনো বিরতি থাকলেও পূর্বের অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি বজায় থাকবে, যা মডুলারাইজড শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। প্রথাগত পরীক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীল মূল্যায়ন ও দক্ষতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংস্কার কার্যক্রম সফল হলে তা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এবং গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে তুলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, নতুন কারিকুলাম কঠিন মনে হলেও এটা আসলে সহজ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আরও মনোযোগী হবেন। পড়াশোনার চাপে ব্যস্ত থাকলে শিক্ষার্থীদের অন্য দিকে সময় নষ্ট করার সুযোগ থাকবে না। উপাচার্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিতকরণে এই কর্মশালাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ২০২৫-২০২৬ সেশনের নতুন একাডেমিক কাঠামো ও অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি প্রতিটি বিভাগকে তাদের অনুষদের সঙ্গে পরামর্শ করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, নতুন কারিকুলাম বিদ্যমান কারিকুলামের চেয়ে সহজ। পরীক্ষা পদ্ধতি, মূল্যয়ন ও ফলাফল প্রকাশ সহজে করা যাবে। প্রথমত একটু খাপ খাওয়াতে কষ্ট হলেও এটি ঠিক হয়ে যাবে। অনুষদভিত্তিক নিজেদের সিলেবাস প্রণয়নসহ বাকি পরিকল্পনাগুলো করার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, বিভাগ, ইনস্টিটিউটসমূহের সভাপতি, পরিচালকবৃন্দ ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দসহ দুই শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement