বিআইটিআইডিতে ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সকলের প্রচেষ্টা ছাড়া এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়: বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক

8

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এর উদ্যোগে ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট (২০২৫ গাইড লাইন অনুযায়ী)’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আজ ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

বিআইটিআইডি’র পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইফতেখার আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। প্রশিক্ষণের মূল আলোচক ছিলেন অধ্যাপক (ডা.) মামুনুর রশীদ, ডা. মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, ডা. আয়েশা ফারহানা, ডা. রুমানা রশীদ, ডা. প্রণব কুমার বড়ুয়া, ডা. মাহবুব আনাম শাহরিয়ার খান ও ডা. তাবাস্সুম ফেরদৌসী। চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও মেডিকেল অফিসারগণ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার সভাপতি বিআইটিআইডি’র পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইফতেখার আহমদ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে ডেঙ্গু বিষয়ক বিবিধ আলোচনা করেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রধান অতিথি বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং যথাযথ ও সময়মত চিকিৎসা সেবা প্রদান করে ডেঙ্গুর মৃত্যুহার কমানোর উপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি মারাত্মক রোগ। আমাদের সকলের প্রচেষ্টা ছাড়া এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সর্বত্র জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সচেতনতা, ঐক্য ও সম্মিলিত উদ্যোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল ভিত্তি। এর লক্ষণগুলো জানা এবং মশা নিধন ও পরিস্কার-পরিচছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করা জরুরী। এ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রামের বিষয়ে তাগিদ দেন তিনি।
উক্ত প্রশিক্ষণে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং ম্যানেজমেন্ট ও বিভিন্ন বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন গর্ভবর্তীর ডেঙ্গু, কিডনী রোগী এবং অন্যান্য) ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশের ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি খুবই কার্যকরী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। তিন দিনে একদিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

Advertisement