ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নগরবাসীকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং জ্বর হলে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
চট্টগ্রাম কর্মজীবী সমবায় সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে জ্বর তিন দিন স্থায়ী হলে ডেঙ্গু পরীক্ষার পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। তাই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সবার দায়িত্ব।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মেয়র বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় কয়েক হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৪১টি ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারের বেশি। একই সময়ে জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তবে আগের কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মেয়র বলেন, “আমরা চাই না ডেঙ্গুতে একজন মানুষও মারা যাক। এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের করণীয় সম্পর্কে মেয়র বলেন, জ্বর হলে পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং বিশ্রামে থাকতে হবে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়া, রক্তপাত, পায়খানা বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া কিংবা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেমন মাতৃসদন হাসপাতালেও ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে চট্টগ্রাম কর্মজীবী সমবায় সমিতির বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে মেয়র বলেন, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কর্মজীবী মানুষের পাশে থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। মশারি, ছাতা, রমজানের খাদ্যসামগ্রী এবং শিশু-কিশোরদের পোশাক বিতরণের মতো উদ্যোগের জন্য তিনি সংগঠনটির নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় নগরীর একটি শ্রমজীবী হোস্টেল দীর্ঘদিন ধরে চালু না হওয়ার বিষয়েও মেয়র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নগরীর প্রাণকেন্দ্রে থাকা একটি স্থাপনা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা দুঃখজনক। প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করে এটি চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মেয়র আরও বলেন, নগরীর ওই এলাকায় জনসাধারণের সুবিধার্থে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বড় মেডিকেল হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার ও বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে প্রবীণদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

















