বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সুজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সূবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপরোক্ত নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় সুজন বলেন, প্রবাসীরা হচ্ছেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি। নিজেদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিবছর দেশ থেকে অনেক লোক বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন এবং হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির ভিতকে মজবুত করে বৈদেশিক রিজার্ভকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন। এরা সবাই স্ব-উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। দেখা যায় যে একজন বিদেশযাত্রী বিদেশ যাত্রার পূর্বে তার নিজের ভিটেমাটি বিক্রি, মা কিংবা স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক অথবা জমানো টাকা দিয়ে একটু স্বচ্ছলতার জন্য প্রবাসে গমন করে। দেশ থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে পরিবার পরিজন বিহীন একেকজন প্রবাসী নিজের মেধা, ঘাম এবং শ্রম দিয়ে উপার্জন করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সমৃদ্ধ করে তুলছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি এবং উন্নয়নের ভিত্তি, স্বপ্নের সোনালী সোপান ও অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই রেমিট্যান্স। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রতিনিয়ত রেকর্ড করে অর্থনীতিতে প্রাণশক্তি সঞ্চার করে রেখেছে আমাদের প্রবাসীরা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে দেশের অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করা সেসব প্রবাসীরা যখন দেশে আসে বিমান বন্দরে তাদের সাথে অনেকটা চোরের মতো আচরন করা হয়। তাদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে দেশে কোন বৈধ জিনিস আনলেও বিমান বন্দরের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তারা কোন প্রকার কথাবার্তা ছাড়াই তাদের লাগেজ এবং মালামাল সমূহ ছিড়ে নষ্ট করে ফেলে।
এছাড়া বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট প্রবাসীদের জন্য এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এয়ারপোর্ট কন্টাক্ট না থাকলে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রবাসীদের বিমান বন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। তাছাড়া বিমান বন্দরে বিভিন্ন প্রসেসিংয়ের জন্য প্রবাসীরা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকলেও তাদের প্রতি কোন প্রকার সহমর্মিতা কিংবা সহানুভ‚তি দেখানোর প্রয়োজনও কেউ মনে করে না।
এমতাবস্থায় গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সূবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রবাসীরা যাতে কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হন, তাদের যথাযথ সেবা যাতে নিশ্চিত হয় সেজন্য নির্দেশনা প্রদান করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। প্রতিদিনকার হাজারো ব্যস্ততার ভিড়ে কোন বিষয়ই যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজর এড়ায় না প্রবাসীদের জন্য নির্দেশনা সেটার অন্যতম একটি উদাহরন। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন খোরশেদ আলম সুজন।
প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার ফলে দেশের বিমান বন্দরসমূহে প্রবাসীদের হয়রানি দূর হবে এবং প্রবাসীরা স্বস্তিতে দেশে আসা যাওয়া করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি দেশের সকল বিমান বন্দরে প্রবাসীদের জন্য ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিতকরণ, প্রবাসীদের জন্য ভিআইপি, সিআইপিদের মতো আলাদা কাউন্টার স্থাপন এবং বৈধ যে কোন জিনিসপত্র আমদানিতে যাতে কোন প্রকার হয়রানি করা না হয় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।
















