চট্টগ্রামের কালুঘাট বেতার কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর বন্ধ ও এর কিউরেটসকে ওএসডি করার দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
আজ সোমবার (৭ মার্চ) সকালে সাড়ে ১১ টায় জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সর্বস্তরের লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়,আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি, ইতিহাস পাঠে সবাই জানেন জিয়াউর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার মদদ প্রদানকারী সামরিক জান্তা। তাই চট্টগ্রামের মানুষ তার নামে সরকারী অর্থে কোন জাদুঘর পরিচালনা বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের আদর্শ পরিপন্থী বলে মনে করে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে যে জাদুঘরটি পরিচালিত হয়, সেটি পরিচালিত হয় বেসরকারি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমে।
‘১৬ আগস্ট ২০১৬ তারিখে সুপ্রীম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ এর রায়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে “একজন আর্মি রুলস ভঙ্গকারী” “অবৈধ দখলদার রাষ্ট্রপতি বলে উল্লেখ করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল।
রায়ে তিনি বলেছেন, প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গং দেশে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও অস্ত্র এবং অবৈধ কলমের খোঁচায় নির্বাচিত জাতীয় সংসদকে ভেঙ্গে ডাকাতদের মতো জোরপূর্বক জনগণের ক্ষমতা ডাকাতি করে দখল করে। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও আর্মি রুলস ভঙ্গ করে জনগণের রায়ে নির্বাচিত জাতীয় সংসদকে হত্যা করে, দেশের সংবিধানকে হত্যা করে অস্ত্রের মুখে অন্যায়ভাবে, অসৎভাবে হত্যাকারীদের দোসর হয়ে, জনগণকে চরম অবজ্ঞা করে ক্ষমতা দখল করেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও জেনারেল জিয়া মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী, তথা স্বাধীনতার বিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং জামায়াতে ইসলামীকে এদেশে পুনর্বাসন করেন। গত ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ট মতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
আমরা অবাক ও বিস্মিত হয়েছি ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, চট্টগ্রাম’ এর উপ-কীপার মো. ইলিয়াস স্বাক্ষরিত একটি হাতে লেখা ৪৩,২২.০০০০.০২৭.০২.০৩৬,২০২২/২৩৫৬ তারিখ: ০৫-০১-২০২২ এর প্রতি মহাপরিচালক জাতীয় জাদুঘরকে মো. ইলিয়াস খান, ১৯ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দ বুধবার জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সেমিনার হলে বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী পালন, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মাহফিল করার কথা উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনটির অনুলিপি তিনি জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক, কীপার (জনশিক্ষা), জাতীয় জানুঘর ও গ্রন্থাগারিককে প্রেরণ করেন। আমরা জেনেছি, এই ইলিয়াস খান বিএনপি’র আমলের একজন মন্ত্রীর ভগ্নিপতি। এই জাদুঘরে বসে তিনি খুনি জিয়াকে নিয়ে বিভিন্ন কর্মকান্ড করে চলেছেন।
১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা জাতীয় নেতা এম. এ হান্নান এই বীর চট্টগ্রাম থেকেই পাঠ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের ঊষালগ্নে চট্টগ্রাম গর্জে উঠেছিল। বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা বঙ্গবন্ধু প্রথম চট্টগ্রাম থেকেই ঘোষণা করেছিলেন।
এমতাবস্থায়, আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি, বঙ্গবন্ধু হত্যার মদদদাতা, সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক ঘোষিত অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তা এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশ প্রদানকারী এবং পুনর্বাসনকারী জেনারেল জিয়াউর রহমানের নামে সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ টি অনতিবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হোক এবং এর বর্তমান কিউরেটর মো. ইলিয়াস খানকে প্রশাসনিক জবাবদিহির আওতায় এনে ওএসডি করা হোক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মোহাম্মদ ইউনুছ, সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, সাংবাদিক শুকলাল দাশ,জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি সাইফুল আলম বাবু, মিলি চৌধুরী, সাংবাদিক কমল দাশ, আফম মোদাচ্ছের আলী, মুজাহিদুল ইসলাম, মানবাধিকার নেতা আমিনুল হক বাবু।

















