সুজনের সাথে জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালকের শুভেচ্ছা বিনিময়

218

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কবির। আজ মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) সকালে সুজনের উত্তর কাট্টলীস্থ বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

Advertisement

এসময় সুজন কোভিডকালীন সময়ে স্বাস্থ্য পরিচালকের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে কোভিড ডেডিকেটেড করে গড়ে তোলা এবং স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে চট্টগ্রামে কোভিড রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা প্রদানের যে সাহসী ভূমিকা তিনি রেখেছেন সেজন্য চট্টগ্রামবাসী তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। কোভিডকালীন সময়ে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ জুড়েই ছিল তাঁর পদচারণা। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় গিয়ে সেখানকার হাসপাতালগুলোকে কোভিড চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলা ছাড়াও কোভিড চিকিৎসায় নিয়োজিত সকলকে অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

এছাড়া চট্টগ্রামবাসীর স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনে যখনই ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কবীর’র কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তখনই তিনি দ্বিধাচিত্তে সহায়তার হাত প্রসারিত করেছেন বলে জানান সুজন।

সুজন আরো বলেন, চসিক’র প্রশাসকের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় একটি পাবলিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার প্রেরণ করি। মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি সার্চ কমিটি গঠন করে। সার্চ কমিটি স্বল্প সময়ের মধ্যে বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করে একখানা প্রস্তাবনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবনা প্রেরণের পেছনেও কাজ করেছেন তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক। বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় প্রস্তাবিত হাসপাতালটি নির্মাণে তাই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি। তাছাড়া চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনে কখনো কোন সুযোগ সৃষ্ঠি হলে সে সুযোগ কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান সুজন।

বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কবির সুজনের বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং দায়িত্বকালীন সময়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন আমি চট্টগ্রামের সন্তান, নিজ জন্মভূমিতে দায়িত্ব পালন করা সর্বদাই আনন্দের। আমি যখনই চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করেছি চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগনের ভালোবাসা পেয়েছি। আর সর্বস্তরের জনগনের সহযোগিতা ছিল বলেই কোভিডকে আমরা পরাস্ত করতে পেরেছি। বিশ্বব্যাপী মহামারী ধারণ করা এ রোগকে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। আর এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে গিয়ে আমাদের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিদারুন পরিশ্রম করেছেন। কোভিডের আঘাতে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন তারপরও জনগনের চিকিৎসাসেবা থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি কেউ। তিনি কোভিড মহামারীতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে চট্টগ্রামের প্রতি আমার বিশাল দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি যখনই কোন সুযোগ পেয়েছি সে সুযোগ চট্টগ্রামবাসীকে দিতে চেয়েছি। বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় প্রস্তাবিত পাবলিক হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি। নতুন কর্মস্থলেও কোন সুযোগ থাকলে সে সুযোগ প্রাপ্তি থেতে চট্টগ্রামবাসী বঞ্চিত হবেন না বলেও আশা প্রকাশ করেন ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কবির।

Advertisement