প্রথম দিনেই বাজিমাত জয়ার ‘বিউটি সার্কাস’

49

নির্মাতা হিসেবে নবীন হলেও ‘বিউটি সার্কাস’ ছবিটি পরিচালনায় পরিপূর্ণ নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন চট্টগ্রামের ছেলে মাহমুদ দিদার।টিভি পর্দায় নিজের মুন্সিয়ানা প্রতিষ্ঠিত করে বড়পর্দায় নির্মাতা হিসেবে অভিষেক ঘটলো মাহমুদ দিদারের।

Advertisement

ছবিটি মুক্তির প্রথম দিনেই করেছেন বাজিমাত। সকাল থেকেই রাজধানী, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, সিলেটের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ঢুঁ দিচ্ছেন নির্মাতা সহ ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

শুক্রবার একই দিনে দুটি নতুন ছবি মুক্তি পেয়েছে। দেশের ৩৫টি সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে র‌্যাবের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত সিনেমা অপারেশন সুন্দরবন। আর ১৯টিতে মুক্তি পাচ্ছে সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমা বিউটি সার্কাস। বড় কোনো উৎসব ছাড়াই অনেক দিন পর একই দিনে মুক্তি পেলো বহুল প্রতীক্ষিত দুই সিনেমা বিউটি সার্কাস ও অপারেশন সুন্দরবন। তারকাবহুল দুই ছবি মুক্তি নিয়ে জোর আলোচনা ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মুক্তির আগে দুই ছবির পরিচালক, কলাকুশলীরা ব্যস্ত ছিলেন প্রচারে।

চট্টগ্রাম শহরের ফিনলে স্কয়ারের সিলভার স্ক্রিনে প্রথম শো সমাপ্তির পর থেকেই অনেকেই ‘বিউটি সার্কাস’ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করছেন। সাধারণ দর্শকের কাছে ছবিটি পাচ্ছে ভালো রেটিং। অবশ্য ‘বিউটি সার্কাস’ ছবিটির ট্রেলার ও গান প্রকাশ করেই সিনেপ্রেমী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে তারকাবহুল এই ছবি মুক্তির খবর।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জানান, ছবিটি খুবই ভালো লেগেছে। পরিপূর্ণ বিনোদনের ছবি ‘বিউটি সার্কাস’ হারিয়ে যাওয়া যাত্রা সংস্কৃতির অনবদ্য রূপায়ন।’

আরো যেসব প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে বিউটি সার্কাস- লায়ন সিনেমাস (কেরানীগঞ্জ), গ্র্যান্ড সিলেট সিনেপ্লেক্স (সিলেট), সিলভার স্ক্রিন (চট্টগ্রাম), মম ইন (বগুড়া), পূরবী (ময়মনসিংহ), বিজিবি (সিলেট), তাজ সিনেমা (নওগাঁ), সংগীত সিনেমা (খুলনা), মর্ডান সিনেমা (দিনাজপুর), পান্না সিনেমা (মুক্তারপুর), রাজ সিনেমা (কুলিয়ারচর), মাধবী সিনেমা (মধুপুর), আনন্দ সিনেপ্লেক্স (গুরু দাসপুর), রাজিয়া সিনেমা (নাগরপুর)।

সিনেমাটি নিয়ে সাধারণ দর্শক থেকে সিনে-আলোচকরাও মুখিয়ে, সমকালীন নির্মাতা, তারকারাও ‘বিউটি সার্কাস’ দেখতে দর্শকদের অনুরোধ করছেন। সিনেমাটিতে সার্কাসকন্যা ‘বিউটি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান।

লুকিয়ে সার্কাস দেখা জয়াকে ভেবেই সিনেমাটির গল্প লেখা। চরিত্র কেমন হবে, বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে চিত্রনাট্য লিখতে জয়া আহসান, পরিচালক ও সহকারী নিয়ে ছুটলেন রাজবাড়ী, লুকিয়ে যাত্রা দেখতে। জয়া কয়েক দিন থাকলেন সেখানে। সে সময় তিনি খুব কাছ থেকে দেখেন সার্কাসের রঙিন মানুষদের পেছনের সংগ্রাম। তাঁদের সঙ্গে জয়ার সখ্য বাড়তে থাকে। সেই মানুষ ও গল্পগুলো পরে বিউটি সার্কাস-এ জায়গা করে নিয়েছে।

জয়া বলেন, ‘সার্কাসের মেয়েগুলো কীভাবে মেকআপ নেয়, কী পোশাক পরে, তাদের আচরণ কেমন-এগুলো তাদের সঙ্গে থেকে দেখেছি।’ তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সার্কাসের দড়ির ওপর নিজেই হাঁটবেন। যত উঁচুই হোক, ডামি ব্যবহার করবেন না। সিনেমায় দেখা যাবে ৬০ ফুট ওপর থেকে জয়ার নিচে নামার দৃশ্য।

সার্কাস নিয়ে গল্প, সেখানে হাতি, ঘোড়া, বানর, কুকুর, পাখি থাকবে না, তা কি হয়? প্রাণিপ্রেমী জয়া যেখানে আছেন, সেখানে পশুপাখিদের সঙ্গে খাতির জমবে না, সেটাও ভাবা যায় না। জয়া বলেন, ‘যত দিন শুটিংয়ে ছিলাম, তত দিন সার্কাসের যত পশুপাখি ছিল, সব কটির যত্ন আমি নিজে নিয়েছি। খেতে দেওয়া, যত্ন নেওয়া-সবই আমি করেছি। চাইছিলাম এগুলোর যেন কোনো ক্ষতি না হয়।’

তারকাবহুল ছবিতে জয়া আহসান ছাড়াও আছেন তৌকীর আহমেদ, ফেরদৌস, এ বি এম সুমন, গাজী রাকায়েত, শতাব্দী ওয়াদুদ এবং প্রয়াত এস এম মহসীন ও হুমায়ুন সাধু। ছবিটি নিয়ে ফেরদৌস বলেন, ‘এ ধরনের গল্পে এই প্রথম অভিনয় করেছি। আমার বখতিয়ার চরিত্রে দর্শক অন্য এক ফেরদৌসকে পাবেন।’

নির্মাতা মাহমুদ দিদার বলেন, “বিউটি সার্কাস ভরপুর বিনোদন ও প্রতিশোধের এক গল্প। সার্কাসকে কেন্দ্র করে এক সাহসী নারীর লড়াই। আমরা মনে করি এ চলচ্চিত্রটি পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করার মতো একটি ছবি। এক মুহূর্তও পর্দা থেকে চোখ ফেরাতে পারবেন না দর্শক। প্রথম দিনেই পুরো বাংলাদেশ মেতেছে বিউটি সার্কাসে।”

Advertisement