বন্যাদুর্গত এলাকায় বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন। গত ২১ আগস্ট ভারত থেকে উজানের পানি এসে ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা ভাসিয়ে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ রওনা দিতে থাকে মানুষকে বাঁচানোর তাগিদে।
তেমনি একটি গ্রুপ “আমরা সহপাঠী ছাত্র” ফেনীর বিভিন্ন একালায় বন্যার্তদের সাহায্যে চট্টগ্রাম থেকে ছুটে যায়। তারা বলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে হু হু করে পানি আসার খবর দেখে আমরা বেশ কয়েকজন সহপাঠী ও বন্ধুরা মিলে বন্যার্তদের পাশে ত্রান ও রেসকিউ করার সিদ্ধান্ত নিই। পরে সাথে সাথেই ২১তারিখ থেকে আমরা ত্রাণ ও বোট সংগ্রহ করে পরের দিন ২২তারিখ সকালে বোট আর ট্রাক নিয়ে কয়েকশত মানুষের জন্য ত্রান ও রেসকিউর জন্য যা যা দরকার সব নিয়ে ফেনীর মহুরী গঞ্জে নেমেই আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধার কাজ শুরু করি। আটকা পড়া মানুষের অবস্থা এত ভয়াবহ ছিল যা বলে প্রকাশ করা যাবে না। ওখানে মানুষের বাঁচার আকুতি কান্না দেখে আমাদের মন ভারী হয়ে যায় এবং ওখানের স্থানীয় মানুষরা সবার কাছে অনুরোধ করতেছে ওদের আত্মীয়-স্বজনকে উদ্ধার করার জন্য এবং আমাদের সহপাঠীরা দুইটা বোট নিয়ে উদ্ধার কাজে নেমে যাই। পরে আমরা বোটে করে ত্রাণ গুলো নিয়ে যাই এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে উদ্ধার করতে থাকি এবং যারা আশ্রয় কেন্দ্রে ছিল তাদেরকে শুকনো খাবার দিয়ে আসি। এভাবে আমাদের উদ্ধারকাজ চলতে থাকে আমরা অনেক ভিতরে, ফাজিলপুর, মুহুরী বাজার, পূর্ব মন্দিয়া, দক্ষিণ মন্দিয়া, উত্তর কুমার, দক্ষিণ কুমার, কৈয়রা, শিবপুর, নিচ পানুয়া, ছাগলনাইয়া, ঘোপাল, ফুলগাজী, পরশুরাম, সিলনিয়া সহ যেখানে মানুষ আটকা পড়ে ছিল তাদেরকেও উদ্ধার করি। অনেকেই আবার আটকা পড়ে আছে যারা বাঁচার জন্য ঘরের টিনের উপর আশ্রয় নিয়েছেন তাদেরকে ও উদ্ধার করি। আরো বিভিন্ন এলাকায় মানুষদেরকে বিশুদ্ধ পানি শুকনা খাবার দিয়ে থাকি, অনেক বলছেন তিন দিন ধরে কোন বোট নৌকা তাদের কাছে খাবার নিয়ে আসে নাই, খুবই মানবেতর জীবনযাপন দেখে আমাদের বুকটা ভারী হয়ে উঠে। আমরা ৫০০ লিটার বেশী পানি নিয়ে যাই।
বিভিন্ন জায়গায় উদ্ধার করার সময় আমরা কয়েকটা লাশ ও উদ্ধার করি তাদেরকে অনেক জায়গায় খুঁজাখুঁজির পরে সব জায়গায় পানি আর পানি তাদেরকে কবর দেওয়ার মতন কোন জায়গা ছিল না অনেক ঘুরাঘুরির পরে একটা উপরে স্থান পাই, সেখানে তাদেরকে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করি। আমারা প্রায় চারদিন যাবৎ ত্রাণ বিতরন ও সহায়তা করি এবং আগামী দুই চার দিন পর আবারও বন্যার্তেদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ গ্রহন করেছি।
আমাদের এই টীমে যারা সার্ভিক সহযোগিতায় ছিলেন- মোহাম্মদ জাহিদ, শাকিল, আনিস মোহাম্মদ বিবলু, তৌহিদুল ইসলাম ফরহাদ, মিনহাজুল হক মিনার, এহসান মনির, তানভীর আহমেদ, মুতাজ সিকদার, মাহফুজ মুন্না, ইমাম সাকিব প্রমুখ।
















