সীতাকুণ্ডে গলায় ফাঁস দেওয়া গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, পালিয়ে গেছে স্বামী-শ্বশুর

111

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: সীতাকুণ্ডে তাহমিনা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে মডেল থানা পুলিশ।

Advertisement

সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নে গোলাবাড়িয়া বাকের মাস্টার বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া গৃহবধূ লাশ উদ্ধার করা হয়। তাহমিনা আক্তার গোলাবাড়িয়া গ্রামের বাকের মাস্টার বাড়ির মাইনুল ইসলামের স্ত্রীর। এ ঘটনার পর থেকে স্বামী এবং শ্বশুর পালাতক রয়েছে।

জানা যায়, মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুস সালামের ভাগ্নি তাহমিনার সাথে মাইনুল ইসলাম নামে যুবদল কর্মী মাইনুল ইসলামের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সোমবার সন্ধ্যার পর যে কোন সময়ে নিজ ঘরে ফ্যানের সাথে গলায় নিজের ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখে পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানালে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। তবে গলায় ফাঁস লাগানো থাকলেও তার দুইটি পা ছিল মাটির সাথে লাগানো। এ দৃশ্য দেখে লোকজন এটিকে হত্যা বলে মন্তব্য করছেন।

গৃহবধূ তাহমিনার মামা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, বিয়ের পর থেকেই আমার ভাগনীকে সবসময় নির্যাতন করতো তার স্বামী। সে ছিল বেকার ও মাদকাসক্ত। সব সময় বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্যে মানষিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো। সোমবার সন্ধ্যায় স্বামী ও শ্বশুরের সাথে ঝগড়া হয় তাহমিনার। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেয়। লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলানো থাকলেও পা দুইটি ফ্লোরে ছিল। সে যদি আত্মহত্যা করতো তাহলে তার রুমের দরজা করে করে করতো। দরজা খোলা ছিল। এঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বশুর পালিয়ে যায়। লাশের পোষ্টমোটেম রিপোর্টের পর আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেবো।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই নূর হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছি। উদ্ধার পরবর্তী স্বামী ও শ্বশুর পক্ষের কোন লোকজনকে আমরা ঘটনাস্থলে পাইনি। সুরতহাল রিপোর্ট পরবর্তী লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি।

Advertisement