চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের দীর্ঘ দিনের তৃনমুলের সাংগঠনিক অবহেলার অবসান ঘটতে যাচ্ছে

913

দীর্ঘ দিন যাবত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের থানা ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটি দিতে না পারার ব্যর্থতায় তৃনমুল ছিল হতাশাগ্রস্ত। বিগত দিনের সংগঠনটির নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা নিজেদের কমিটি যেমন পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি, তেমনি ইউনিটগুলোতেও দিতে পারেননি কমিটি। দীর্ঘ দিন যাবত বিভিন্ন ইউনিটে কমিটি না থাকায় অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে ছাত্রদল। সাংগঠনিক অচলঅবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ছাত্রদলের বর্তমান আহব্বায়ক কমিটি সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছে। তৃণমূলকে শক্তিশালী করার মিশনে ৭টি টিম করে ইউনিট প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছে সাইফুল-তুহিনের কমিটি।

Advertisement

চট্টগ্রামে আছে ছাত্রদলের গৌরবময় অধ্যায়।বিগত দিনের সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রদল অগ্রনী ভুমিকা পালন করত গিয়ে হামলা মামলার শিকার হওয়ার পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় জর্জরিত।

নগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন ইউনিট কমিটি গঠন না হওয়ায় তৃনমুলের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল এবং বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।আমি নিজে দীর্ঘদিন তৃনমুলের অবস্থানে থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছি।আমি তৃনমুলের মনের অবস্থা বুঝতে পারি। দীর্ঘ দিনের সাংগঠনিক স্তবিরতার অবসান ঘটাতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও সদস্যদের সমন্বয়ে সাতটি টিম করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টিমের সদস্যরা যোগ্য নেতৃত্ব বের করে একটি দক্ষ ও আদর্শিক ছাত্রদল উপহার দেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমাহীন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। কমিটি গঠনের পর হতে আমাদের কমিটির প্রায় সকলের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্ভট মামলায় জড়ানো হচ্ছে।এরপর ও ছাত্রদল রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেন।
যারা অতীতে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন কমিটি গঠনের সময় তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

গেল বছরের ২৬ ডিসেম্বর মো. সাইফুল আলমকে আহব্বায়ক ও শরীফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্য সচিব করে নগর ছাত্রদলের ৩৫ সদস্যের আহব্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এই কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত ছাত্রদের হাতে আসে ছাত্রদল। তার আগে ২০১৩ সালের ২২ জুলাই নগর ছাত্রদলের ১১ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। একমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়ে গঠন করা সেই কমিটিতে গাজী সিরাজকে সভাপতি ও বেলায়েত হোসেন বুলুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। গাজী সিরাজ ও বেলায়েত হোসেন বুলু দীর্ঘ দিন তাদের কমিটি পুর্নাঙ্গ করতে গিয়ে ছাত্রদলের বেহাল অবস্থা সৃষ্টি করেন ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর নগর ছাত্রদলের ২৭২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। অছাত্র, বিবাহিত, ব্যবসায়ী, প্রবাসী এমনকি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মূল সংগঠন বিএনপির অনেক নেতাকেও এ কমিটিতে পদ দেয়া হয়। একমাস না পেরুতেই ২২ ডিসেম্বর এটিকে বর্ধিত করে ৫৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। যদিও চার দিন পর বিলুপ্ত হয় সেই কমিটি।

নগর ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য আল মামুন সাদ্দাম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আওতাধীন থানা, কলেজ,ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটি গুলো দীর্ঘ দিন না হওয়ার কারনে সাংগঠনিক অবস্থা স্তবির হয়েছিল। অনেক আগেই ইউনিট কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে ও রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতার কারণে কমিটিগুলোর গঠন দীর্ঘ দিন আটকে ছিল। বর্তমান আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব এর নেতৃত্বে গঠিত ৭ টি সাংগঠনিক টিমের মাধ্যমে কমিটিগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।অতীতের রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে এবং নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে দ্রুত সময়ের মাধ্যমে সবগুলো ইউনিট কমিটি গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

সাত টিমের দায়িত্বে যারা : পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মোস্তফা হাকিম ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, হাজেরা-তুজ ডিগ্রি কলেজ, সরকারি আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ, ওমরগনি এম.ই.এস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বাকলিয়া সরকারি কলেজ ও ছাফা মোতোলেব ডিগ্রি কলেজের সাংগঠনিক অবস্থা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্ম আহব্বায়ক সাব্বির আহমেদ, এমএ হাসান বাপ্পা, মাহমুদুর রহমান বাবু, সদস্য শাহারিয়ার আহমেদ ও ইমরান হোসেন বাপ্পীকে।

চট্টগ্রাম কলেজ, সরকারি হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ, সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম আইন কলেজ, ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ব্যারিস্টার সুলতান আহমদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ডা. ফজলুল হাজরা ডিগ্রি কলেজ ও বাকলিয়া শহীদ এন.এম.এম.জে কলেজ এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্ম আহব্বায়ক মো. আরিফুর রহমান মিঠু, জাহেদ হোসেন খাঁন জসি, সদস্য দেলোয়ার হোসেন শিশির ও তারেক আজিজ বিপ্লবকে।

হালিশহর থানা, ডবলমুরিং থানা, সরদাঘাট থানার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যুগ্ম আহব্বায়ক শহিদুল ইসলাম সুমন, রাজীবুল হক বাপ্পী, সামিয়াত আমিন জিসান, সদস্য শামসুদ্দীন শামসু ও কামরুল হাছান আকাশকে।

খুলশী, আকবরশাহ ও পাহাড়তলী থানার সাংগঠনিক পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যুগ্ম আহব্বায়ক জিএম সালাহ উদ্দিন কাদের আসাদ, মো. ফখরুল ইসলাম শাহীন, সদস্য মো. আবুল কাউসার ও আল মামুন সাদ্দামকে।

বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানার সাংগঠনিক পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যুগ্ম আহব্বায়ক মো. আনাছ, নূর নবী মহররম, সদস্য এনামুল হক ও আবু হাসনাত জুয়েলকে।

কোতোয়ালী, চকবাজার ও বাকলিয়া থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্ম আহব্বায়ক মো. জহির উদ্দীন বাবর, নূর জাফর নাঈম রাহুল, সদস্য নজরুল ইসলাম ও মাহামুদুল হাসান রাজুকে।

পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্ম আহব্বায়ক মো. আরিফুর রহমান (মাস্টার আরিফ), মো. ইসমাইল হোসেন, সদস্য আব্বাস উদ্দিন ও রকি হোসেন পিচ্ছিকে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দকে ত্রিশ দিনের মধ্যে আহব্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর সাংগঠনিক প্রতিবেদন ও তথ্য সংগ্রহ ফরম দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।

Advertisement