চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ব্যস্ত করিডোর। চারদিকে ওষুধের গন্ধ, ট্রলির চাকার রোগীদের স্বজনদের উদ্বেগ। এই যান্ত্রিকতার মাঝেও যারা মমতার স্পর্শ দিয়ে আশার আলো জ্বালিয়ে রাখেন, তাঁদেরই নাম নার্স। আর সেই নার্সের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স তাহেরা রুনা। আজ ১২ মে, আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবসে চমেক হাসপাতালের এই নিবেদিতপ্রাণ সেবিকাকে নিয়ে আমাদের বিশেষ ফিচার।
সাদা অ্যাপ্রোনে এক লড়াকু জীবনঃ তাহেরা রুনা কেবল একজন নার্স নন, তিনি একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা। প্রতিদিন তিনি নিউরো আইসিইউ’র মত জটিল ইউনিটে সেবা দিয়ে থাকেন। চমেক হাসপাতালের মতো জায়গায় কাজ করা মোটেও সহজ নয়। তাহেরা রুনা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য মুমূর্ষু রোগীর সেবা করেছেন। তাঁর কাছে সেবা মানে কেবল ইনজেকশন বা ওষুধ দেওয়া নয়, বরং যন্ত্রণার মুহূর্তে রোগীর কপালে হাত রাখা এবং একটুখানি সান্ত্বনার বাণী শোনানো। তিনি অত্যন্ত একজন মানবিক নার্স। তার মানবিকতার কথা অনেকেই জানেন।
চমেক হাসপাতালের সেই পরিচিত মুখঃ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড, করোনা কালীন সময় ইয়োলো জোন, রেড জোন, ওসেক, আই সি ইউ এবং আইসোলেশন, নিউরো আই সি ইউ ওয়ার্ড এ দক্ষতা ও মানবিকতার সহিত নার্সিং সেবা দিয়েছেন এবং দিয়ে যাচ্ছেন। তাহেরা রুনার উপস্থিতি মানেই এক ধরণের স্বস্তি। সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন দক্ষ মেন্টর, আর রোগীদের কাছে ভরসার নাম।
পেশাদারিত্ব: কাজের চাপে কখনো মেজাজ হারান না।সহমর্মিতা: দুস্থ রোগীদের প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
নেতৃত্ব: সংকটকালীন মুহূর্তে ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় তাঁর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রশংসনীয়।
চ্যালেঞ্জ ও আত্মত্যাগঃ নার্সিং পেশাটি ত্যাগের। উৎসবের দিনগুলোতে যখন সবাই পরিবারের সাথে সময় কাটান, তাহেরা রুনা তখন হয়তো কোনো মুমূর্ষু রোগীর শয্যাপাশে রাত জাগেন। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে যখন পুরো পৃথিবী থমকে গিয়েছিল, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি চমেক হাসপাতালে বিরতিহীনভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
“সেবা দেওয়াটা আমার কাছে ইবাদতের মতো। একজন রোগী যখন সুস্থ হয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন, তখন সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়।
— তাহেরা রুনা
আন্তর্জাতিক নার্সিং
আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবসের তাৎপর্য ও রুনাঃ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের আদর্শে অনুপ্রাণিত তাহেরা রুনা বিশ্বাস করেন, নার্সিং পেশাটি কেবল জীবিকা নয়, এটি আর্তমানবতার সেবার বড় একটি সুযোগ। আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবসে তাঁর মতো কর্মীদের মূল্যায়ন সমাজকে আরও মানবিক হতে শেখায়।
তাহেরা রুনার কর্মজীবনের কিছু বিশেষ দিক:
অভিজ্ঞতা চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা।
বিশেষত্ব জটিল অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সেবায় বিশেষ দক্ষতা।
দৃষ্টিভঙ্গি রোগীকে ‘কেস’ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে দেখা।
শেষ কথাঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো বিশাল চিকিৎসা কেন্দ্রে তাহেরা রুনার মতো নার্সরাই হলেন মেরুদণ্ড। তাঁদের নিরলস শ্রম আর ত্যাগের বিনিময়েই টিকে আছে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবসে তাহেরা রুনা এবং নিউরো আইসিইউ’র সকল নার্স, নিউরো সার্জারি বিভাগের সকল নার্স তথা চমেক হাসপাতালের সকল নার্সদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁরা সুস্থ থাকুন, তাঁদের সেবার আলো ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে।
র্স দিব তাৎপর্যনা

















